রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

অমুসলিমদের জন্য শ্রীলঙ্কায় মসজিদ পরিদর্শনের উদ্যোগ

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬, ০৮:২৮ পিএম

অমুসলিমদের জন্য শ্রীলঙ্কায় মসজিদ পরিদর্শনের উদ্যোগ

ছবি: সংগৃহীত

ধর্মীয় সম্প্রীতি ও পারস্পরিক বোঝাপড়া বাড়াতে শ্রীলঙ্কার নেগোম্বোতে ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের জন্য মসজিদ পরিদর্শনের বিশেষ আয়োজন করা হয়েছে। এ উদ্যোগের মাধ্যমে মুসলিম নন—এমন মানুষদের মসজিদে প্রবেশ, মুসলমানদের ইবাদতের ধরন প্রত্যক্ষ করা এবং ইসলাম সম্পর্কে নিজেদের কৌতূহল ও প্রশ্নের উত্তর সরাসরি জানার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

নেগোম্বোর পেরিয়ামুল্লা এলাকায় আয়োজিত এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য ধর্ম সম্পর্কে প্রচলিত ভুল ধারণা দূর করা এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও বোঝাপড়ার পরিবেশ তৈরি করা। আয়োজকদের মতে, একে অপরের ধর্ম ও সংস্কৃতি সম্পর্কে সরাসরি জানার সুযোগ থাকলে অজ্ঞতা ও ভুল ধারণা অনেকটাই কমে আসে।

কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া দর্শনার্থীদের মসজিদের বিভিন্ন অংশ ঘুরিয়ে দেখানো হয়। মুসলমানদের নামাজ আদায়ের পদ্ধতি, মসজিদের বিভিন্ন স্থানের ব্যবহার এবং ধর্মীয় রীতিনীতি সম্পর্কেও তাঁদের ধারণা দেওয়া হয়। পাশাপাশি ইসলামি বিশ্বাস, মুসলমানদের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবন এবং শ্রীলঙ্কায় মুসলিম সম্প্রদায়ের ঐতিহাসিক উপস্থিতি নিয়েও আলোচনা করা হয়।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, শুধু মসজিদ পরিদর্শন নয়, দর্শনার্থীদের সঙ্গে সরাসরি প্রশ্নোত্তরের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছিল। ফলে কোনো বিষয়ে আগে থেকে ধারণা বা শোনা কথার ওপর নির্ভর না করে তাঁরা মুসলমানদের কাছ থেকেই নিজেদের প্রশ্নের উত্তর জানার সুযোগ পান।

অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া দর্শনার্থীদের মধ্যে অনেকের জন্য এটি ছিল জীবনে প্রথমবারের মতো মসজিদে প্রবেশের অভিজ্ঞতা। দীর্ঘদিন মুসলমানদের সঙ্গে বসবাস করলেও মসজিদের ভেতরের পরিবেশ, ইবাদতের নিয়ম এবং ধর্মীয় আচার সম্পর্কে সরাসরি জানার সুযোগ তাঁদের হয়নি। এই আয়োজন সেই কৌতূহল মেটানোর একটি সুযোগ তৈরি করে।

একজন বৌদ্ধ শিক্ষার্থী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কর্মসূচির খবর দেখে এতে অংশ নেন। মসজিদের ভেতরে মুসলমানদের ইবাদতের ধরন এবং ধর্মীয় পরিবেশ সম্পর্কে তাঁর দীর্ঘদিনের কৌতূহল ছিল। সেখানে গিয়ে তিনি সরাসরি প্রশ্ন করার সুযোগ পান এবং নিজের সংশয়গুলোর উত্তর জানতে পারেন।

আরেক দর্শনার্থী জানান, প্রায় ছয় দশক ধরে মুসলমানদের কাছাকাছি বসবাস করলেও এর আগে তাঁর মসজিদে প্রবেশের সুযোগ হয়নি। বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে একে অপরের ধর্ম ও জীবনযাপন সম্পর্কে জানার সুযোগ তৈরি করা অত্যন্ত প্রয়োজন বলেও তিনি মনে করেন।

আয়োজনে দর্শনার্থীদের হাতে সিংহলি ভাষায় অনূদিত কোরআনের কপি ও ইসলামবিষয়ক বিভিন্ন বই তুলে দেওয়া হয়। ফলে শ্রীলঙ্কার সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠীর ভাষায় ইসলাম সম্পর্কে জানার সুযোগও তৈরি হয়। পাশাপাশি মুসলিম সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে ঐতিহ্যবাহী খাবারের আয়োজন করা হয়।

শ্রীলঙ্কায় বৌদ্ধরা সংখ্যাগরিষ্ঠ এবং মুসলমানরা একটি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়। দেশটিতে অতীতে বিভিন্ন সময় ধর্মীয় উত্তেজনা ও সম্প্রদায়ভিত্তিক বিরোধের ঘটনাও ঘটেছে। এমন বাস্তবতায় ভিন্ন ধর্মের মানুষের জন্য মসজিদ উন্মুক্ত করে দেওয়ার উদ্যোগটি বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।

এর আগে দেশটির বিভিন্ন এলাকায় ‘আমাদের মসজিদে স্বাগতম’ ধরনের কর্মসূচির মাধ্যমে অমুসলিমদের মসজিদ পরিদর্শনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এসব আয়োজনে মসজিদের ইতিহাস, মুসলিম সংস্কৃতি ও ধর্মীয় অনুশীলন সম্পর্কে দর্শনার্থীদের ধারণা দেওয়ার পাশাপাশি প্রশ্নোত্তরের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

আয়োজকদের বিশ্বাস, ধর্মীয় সম্প্রীতি কেবল পাশাপাশি বসবাসের মাধ্যমে তৈরি হয় না; বরং একে অপরকে জানার ও বোঝার সুযোগও প্রয়োজন। সেই জায়গা থেকেই মসজিদ পরিদর্শনের এই উদ্যোগকে দেখা হচ্ছে। এতে ভিন্ন ধর্মের মানুষ ইসলামের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে সরাসরি জানার সুযোগ পাচ্ছেন, একই সঙ্গে মুসলমানদের জীবনযাপন ও সংস্কৃতি নিয়েও তাঁদের ধারণা স্পষ্ট হচ্ছে।

সব মিলিয়ে নেগোম্বোর এই আয়োজন ধর্মীয় স্থাপনাকে শুধু উপাসনার স্থান হিসেবে নয়, পারস্পরিক পরিচয়, সংলাপ ও সম্প্রীতি তৈরির একটি উন্মুক্ত ক্ষেত্র হিসেবেও তুলে ধরেছে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!