রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

সংকট পেরিয়ে উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশে শ্রীলঙ্কা

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: জুলাই ৩, ২০২৬, ১১:৩৬ পিএম

সংকট পেরিয়ে উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশে শ্রীলঙ্কা

ছবিঃ সংগৃহীত

মাত্র তিন বছর আগেও ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটে বিপর্যস্ত ছিল শ্রীলঙ্কা। বৈদেশিক মুদ্রার সংকট, ঋণ পরিশোধে অক্ষমতা, মূল্যস্ফীতি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের তীব্র ঘাটতির কারণে দেশটির অর্থনীতি কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছিল। তবে ধারাবাহিক সংস্কার, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন খাতের পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে সেই সংকট অনেকটাই কাটিয়ে উঠেছে দ্বীপরাষ্ট্রটি। এই অগ্রগতির স্বীকৃতি হিসেবে বিশ্বব্যাংক শ্রীলঙ্কাকে নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশের তালিকা থেকে উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশের মর্যাদায় উন্নীত করেছে।

বিশ্বব্যাংকের সর্বশেষ আয়ভিত্তিক শ্রেণিবিন্যাসে এই পরিবর্তনের কথা জানানো হয়েছে। সংস্থাটির মূল্যায়নে বলা হয়েছে, গত বছরে শ্রীলঙ্কার অর্থনীতি উল্লেখযোগ্যভাবে সম্প্রসারিত হয়েছে। দেশের মোট দেশজ উৎপাদনে প্রায় পাঁচ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হওয়ায় নতুন এই মর্যাদা লাভ সম্ভব হয়েছে। বিশেষ করে শিল্প উৎপাদনের গতি ফিরে আসা, পর্যটন খাতের পুনর্জাগরণ এবং আর্থিক সেবার সম্প্রসারণ অর্থনীতিকে আবারও গতিশীল করে তুলেছে।

বিশ্বব্যাংক শ্রীলঙ্কার এই অগ্রগতিকে একটি উল্লেখযোগ্য পুনরুদ্ধারের উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছে। সংস্থাটির মতে, অল্প সময়ের মধ্যেই দেশটি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ইতিবাচক বার্তা বহন করছে। যদিও নতুন এই অবস্থানে পৌঁছানোর ব্যবধান খুব বেশি নয়, তবুও এটি দেশটির অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি।

বিশ্বব্যাংক বিশ্বের বিভিন্ন দেশকে মোট জাতীয় আয়ের ভিত্তিতে চারটি পৃথক শ্রেণিতে ভাগ করে। নতুন মূল্যায়নের ফলে শ্রীলঙ্কা এখন উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশগুলোর কাতারে স্থান পেয়েছে। এই শ্রেণিবিন্যাস আগামী নির্ধারিত সময় পর্যন্ত আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক মূল্যায়নের অন্যতম মানদণ্ড হিসেবে বিবেচিত হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, শ্রীলঙ্কার সাম্প্রতিক সাফল্যের পেছনে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে। পর্যটন খাতে বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা বৃদ্ধি, প্রবাসী নাগরিকদের পাঠানো অর্থের প্রবাহ বৃদ্ধি, শিল্প উৎপাদনের সম্প্রসারণ এবং আর্থিক খাতের সংস্কার অর্থনীতিকে শক্তিশালী করেছে। পাশাপাশি বৈদেশিক ঋণ পুনর্গঠন এবং রাজস্ব ব্যবস্থার উন্নয়নও ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছে।

উল্লেখ্য, দুই হাজার উনিশ সালে ধারাবাহিক নিরাপত্তা সংকট, পরে বৈশ্বিক মহামারি এবং বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্যে বড় ধরনের চাপের কারণে শ্রীলঙ্কা ইতিহাসের অন্যতম কঠিন অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়। দুই হাজার বাইশ সালে দেশটি বৈদেশিক ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হলে সংকট আরও গভীর হয়। জ্বালানি, খাদ্য ও ওষুধের তীব্র সংকটের পাশাপাশি দীর্ঘ বিদ্যুৎ বিভ্রাট এবং মূল্যস্ফীতির কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে পড়ে।

পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, আর্থিক সংস্কার এবং অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের বিভিন্ন পদক্ষেপ বাস্তবায়নের মাধ্যমে পরিস্থিতির উন্নতি শুরু হয়। বর্তমানে অর্থনীতির প্রধান সূচকগুলো ইতিবাচক ধারায় ফিরে আসায় বিশ্বব্যাংকের এই নতুন স্বীকৃতি শ্রীলঙ্কার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, এই অগ্রগতি ধরে রাখতে হলে সংস্কারের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং উৎপাদনমুখী খাতগুলোকে আরও শক্তিশালী করার বিকল্প নেই।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!