প্রকাশিত: জুন ১৬, ২০২৬, ১১:১৯ পিএম
বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার মধ্যকার অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে শ্রীলঙ্কা সরকার। দেশটির প্রধানমন্ত্রী ড. হরিণী অমরাসুরিয়া জানিয়েছেন, দক্ষিণ এশিয়ার এই দুই বন্ধুত্বপূর্ণ দেশের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াতে তার সরকার আন্তরিকভাবে আগ্রহী। একই সঙ্গে বিদ্যমান সম্পর্ককে আরও কার্যকর ও শক্তিশালী করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ অব্যাহত রাখার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার শ্রীলঙ্কায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার আন্দালিব ইলিয়াস বিদায়ী সাক্ষাৎ করতে গেলে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকে দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের নানা দিক উঠে আসে। শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আলোচনায় বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে বাণিজ্য সম্প্রসারণ, নতুন বিনিয়োগ সম্ভাবনা এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন খাত।
বৈঠকে ড. হরিণী অমরাসুরিয়া বলেন, বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার মধ্যে সম্পর্ক শুধু কূটনৈতিক সৌজন্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং দুই দেশের জনগণের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহযোগিতার দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। এই সম্পর্ককে আরও ফলপ্রসূ করতে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি জরুরি বলেও তিনি মত দেন।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশের হাইকমিশনার আন্দালিব ইলিয়াস তার দায়িত্ব পালনকালে যেসব উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন, সেগুলোর ইতিবাচক ধারাবাহিকতা ভবিষ্যতেও বজায় থাকবে। বিশেষ করে ব্যবসা-বাণিজ্য এবং বিনিয়োগের ক্ষেত্রে নেওয়া পদক্ষেপ দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিতে ভূমিকা রাখবে বলে তিনি মনে করেন।
শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, শক্তিশালী অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করবে। পাশাপাশি এটি নতুন কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং বাণিজ্যিক সহযোগিতার নতুন পথ উন্মুক্ত করবে। তিনি দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।
বিদায়ী সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশের হাইকমিশনার আন্দালিব ইলিয়াস দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগের বিষয় তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বাণিজ্য, শিক্ষা, পর্যটন এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার সুযোগ আরও বৃদ্ধি করা সম্ভব।
বৈঠকে উভয় পক্ষ বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার মধ্যকার সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং পারস্পরিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে যৌথভাবে কাজ করার বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করা হয়। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের উচ্চপর্যায়ের আলোচনা দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে এবং ভবিষ্যতে নতুন বাণিজ্যিক সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে।



