রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

বিশ্বের সবচেয়ে বেশি মসজিদ আছে যে ১০ দেশে

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: আগস্ট ৩০, ২০২৬, ১০:০৪ এএম

বিশ্বের সবচেয়ে বেশি মসজিদ আছে যে ১০ দেশে

ফাইল ছবি

মসজিদ মুসলমানদের ধর্মীয় জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, জুমার নামাজ, তারাবিহ, কোরআন শিক্ষা, ধর্মীয় আলোচনা ও দাওয়াহর পাশাপাশি বহু সমাজে মসজিদকে ঘিরে গড়ে উঠেছে শিক্ষা, মানবসেবা ও সামাজিক সম্প্রীতির নানা কার্যক্রম। মুসলিম জনসংখ্যা, ধর্মীয় ঐতিহ্য ও সামাজিক কাঠামোর পার্থক্যের কারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মসজিদের সংখ্যাতেও রয়েছে বড় ধরনের তারতম্য।

বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক উৎসের সাম্প্রতিক তথ্য পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, মসজিদের সংখ্যার দিক থেকে কয়েকটি দেশ অন্যদের তুলনায় অনেক এগিয়ে। তবে এসব পরিসংখ্যানের ক্ষেত্রে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি—সব দেশে মসজিদ গণনা ও নিবন্ধনের পদ্ধতি এক নয়। কোথাও শুধু নিবন্ধিত মসজিদ হিসাব করা হয়, আবার কোথাও ছোট উপাসনাস্থলও গণনার আওতায় আসে। ফলে নিচের সংখ্যাগুলোকে চূড়ান্ত সরকারি হিসাবের পরিবর্তে আনুমানিক পরিসংখ্যান হিসেবে দেখা উচিত।

১. ইন্দোনেশিয়া

মসজিদের সংখ্যার দিক থেকে বিশ্বের শীর্ষে রয়েছে ইন্দোনেশিয়া। বিভিন্ন সাম্প্রতিক হিসাব অনুযায়ী, দেশটিতে নিবন্ধিত মসজিদের সংখ্যা প্রায় ৭ লাখ ৪৪ হাজার। দেশটির শহর থেকে প্রত্যন্ত গ্রাম—প্রায় সর্বত্রই মসজিদের উপস্থিতি দেখা যায়। রাজধানী জাকার্তার ইস্তিকলাল মসজিদ দেশটির অন্যতম বৃহৎ ও গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থাপনা।

২. ভারত

বিশাল মুসলিম জনগোষ্ঠীর কারণে মসজিদের সংখ্যাতেও ভারত বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ দেশ। বিভিন্ন অনুমানে দেশটিতে প্রায় ৩ থেকে ৪ লাখ মসজিদ রয়েছে। ঐতিহাসিক মসজিদ থেকে শুরু করে স্থানীয় মহল্লার ছোট মসজিদ—দেশটির ধর্মীয় স্থাপত্যে রয়েছে ব্যাপক বৈচিত্র্য। এসব মসজিদ বহু শতাব্দী ধরে ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র হিসেবে ভূমিকা রেখে আসছে।

৩. বাংলাদেশ

মসজিদের ঘন উপস্থিতির কারণে বাংলাদেশও বিশ্বের অন্যতম উল্লেখযোগ্য দেশ। বিভিন্ন হিসাবে দেশে প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার মসজিদ রয়েছে। শহর কিংবা গ্রাম—প্রায় প্রতিটি জনবসতিতেই মুসলিম সমাজের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে মসজিদের নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। নামাজের পাশাপাশি কোরআন শিক্ষা, ধর্মীয় আলোচনা, দাওয়াহ ও বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে মসজিদগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

৪. সৌদি আরব

ইসলামের দুই পবিত্রতম মসজিদ—মসজিদুল হারাম ও মসজিদে নববি—সৌদি আরবেই অবস্থিত। বিভিন্ন হিসাবে দেশটিতে প্রায় ৩ লাখ মসজিদ রয়েছে। মক্কা ও মদিনার ঐতিহাসিক মসজিদ ছাড়াও দেশটির বিভিন্ন শহর ও অঞ্চলে অসংখ্য মসজিদ রয়েছে, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা মুসল্লিদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।

৫. মিসর

প্রাচীন ইসলামি জ্ঞান ও সভ্যতার অন্যতম কেন্দ্র মিসর। সাম্প্রতিক সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশটিতে প্রায় ১ লাখ ৫১ হাজার সক্রিয় মসজিদ রয়েছে। রাজধানী কায়রোর অসংখ্য ঐতিহাসিক মসজিদ দেশটির সমৃদ্ধ ইসলামি ঐতিহ্যের সাক্ষ্য বহন করে। এর মধ্যে আল-আজহার মসজিদ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

৬. পাকিস্তান

মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ পাকিস্তানেও রয়েছে বিপুলসংখ্যক মসজিদ। বিভিন্ন তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে ১ লাখ ১০ হাজারের বেশি মসজিদ রয়েছে। ধর্মীয় কার্যক্রমের পাশাপাশি কোরআন শিক্ষা, ধর্মীয় আলোচনা ও বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগে এসব মসজিদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

৭. তুরস্ক

উসমানি সাম্রাজ্যের স্থাপত্য ঐতিহ্যের জন্য বিখ্যাত তুরস্কে সক্রিয় মসজিদের সংখ্যা প্রায় ৪১ হাজার বলে বিভিন্ন সাম্প্রতিক হিসাবে উল্লেখ করা হয়। ইস্তাম্বুলের সুলতান আহমেদ মসজিদসহ দেশটির বহু ঐতিহাসিক মসজিদ স্থাপত্যের অনন্য নিদর্শন। আধুনিক ও ঐতিহ্যবাহী নির্মাণশৈলীর সমন্বয় তুরস্কের মসজিদগুলোকে বিশেষ বৈশিষ্ট্য দিয়েছে।

৮. নাইজেরিয়া

আফ্রিকার অন্যতম জনবহুল দেশ নাইজেরিয়ায় আনুমানিক ৮০ হাজার মসজিদ রয়েছে বলে বিভিন্ন হিসাবে জানা যায়। দেশটির উত্তরাঞ্চলের মুসলিম অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে মসজিদের ঘনত্ব তুলনামূলক বেশি। রাজধানী আবুজার জাতীয় মসজিদ দেশটির অন্যতম পরিচিত ধর্মীয় স্থাপনা।

৯. ইরান

ইরানে মসজিদের মোট সংখ্যা নিয়ে নির্ভুল ও একক সরকারি পরিসংখ্যান সহজে পাওয়া যায় না। বিভিন্ন উন্মুক্ত তথ্যের ভিত্তিতে দেশটিতে প্রায় ৫৫ হাজার থেকে ৭৫ হাজার মসজিদ থাকার অনুমান করা হয়। ইসফাহানের জামে মসজিদসহ দেশটির বহু ঐতিহাসিক মসজিদ পারস্য ও ইসলামি স্থাপত্যের অনন্য নিদর্শন হিসেবে পরিচিত।

১০. আলজেরিয়া

উত্তর আফ্রিকার দেশ আলজেরিয়াতেও রয়েছে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মসজিদ। বিভিন্ন হিসাবে দেশটিতে প্রায় ৩০ হাজার মসজিদ রয়েছে। রাজধানী আলজিয়ার্সের গ্রেট মস্ক অব আলজিয়ার্স দেশটির অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় স্থাপনা। বিশাল আয়তন ও সুউচ্চ মিনারের কারণে এটি আধুনিক ইসলামি স্থাপত্যের অন্যতম উল্লেখযোগ্য নিদর্শন।

সব মিলিয়ে দেখা যায়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মসজিদের সংখ্যা নির্ধারণে পদ্ধতিগত পার্থক্য থাকলেও মুসলিম সমাজে এর গুরুত্ব প্রায় সর্বত্রই গভীর। কোথাও মসজিদ কেবল ইবাদতের স্থান, কোথাও আবার তা শিক্ষা ও জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র। অনেক অঞ্চলে মানুষের পারস্পরিক সহযোগিতা, সমাজকল্যাণ ও সম্প্রীতির ক্ষেত্রেও মসজিদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। তাই মসজিদের সংখ্যা শুধু একটি পরিসংখ্যান নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে একটি দেশের ধর্মীয় ঐতিহ্য, সামাজিক কাঠামো ও মানুষের জীবনযাত্রার দীর্ঘ ইতিহাস।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!