প্রকাশিত: আগস্ট ৩, ২০২৬, ০৯:৫০ এএম
ঢাকার ধামরাই উপজেলায় পারিবারিক বিরোধের জেরে অন্তঃসত্ত্বা এক গৃহবধূর মৃত্যুকে ঘিরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহত পপি রাণী সরকার (২৭) তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযুক্ত স্বামী লিটন সরকারকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন। রোববার রাতে উপজেলার যাদবপুর ইউনিয়নের গোমগ্রাম এলাকা থেকে মরদেহ উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
স্থানীয়দের ভাষ্য, লিটন সরকার পেশায় অটোরিকশাচালক এবং দীর্ঘদিন ধরে মাদকের সঙ্গে জড়িত। মাদকাসক্তির কারণে তিনি প্রায়ই স্ত্রী পপি রাণীর ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাতেন। পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা একাধিকবার বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করলেও পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি।
অভিযোগ রয়েছে, শনিবার দুপুরে পারিবারিক বিরোধের একপর্যায়ে লিটন সরকার নিজের সাত বছর বয়সী সন্তানের সামনেই লাঠি দিয়ে স্ত্রীকে বেধড়ক মারধর করেন। নির্যাতনের একপর্যায়ে পপি রাণী অচেতন হয়ে পড়লেও তাকে তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালে নেওয়া হয়নি। পরে সন্ধ্যার দিকে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে স্থানীয়দের সহায়তায় হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের বাবা পরিমল সরকার অভিযোগ করে বলেন, বিয়ের পর থেকেই তার মেয়েকে নিয়মিত নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। অতীতেও একাধিকবার মারধরের ঘটনা ঘটেছে। প্রতিবারই অভিযুক্ত ক্ষমা চেয়ে স্ত্রীকে আবার বাড়িতে নিয়ে যেতেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই নির্যাতনই তার মেয়ের মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে নিহতের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। পরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
ধামরাই থানার তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানান, অভিযুক্ত স্বামীকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, পারিবারিক সহিংসতা ও মাদকাসক্তির মতো সামাজিক সমস্যার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে এ ধরনের মর্মান্তিক ঘটনা ভবিষ্যতেও ঘটতে পারে।



