প্রকাশিত: আগস্ট ১২, ২০২৬, ০৮:০১ পিএম
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে মাদকাসক্ত ছেলের নির্যাতন ও ভয়ভীতিতে অতিষ্ঠ হয়ে শেষ পর্যন্ত তাকে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন অসহায় এক বাবা। পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে নেশার টাকা জোগাড় করতে নানা ধরনের চাপ সৃষ্টি করতেন ওই যুবক। এমনকি টাকা না পেলে বাবা-মাকে ধারালো অস্ত্র দেখিয়ে ভয় দেখানোর অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার চুন্টা ইউনিয়নের বড়বল্লা গ্রামে। অভিযুক্ত যুবকের নাম জিয়াউর রহমান। তার বয়স ২৭ বছর। তিনি ওই গ্রামের মন মিয়ার ছোট ছেলে।
পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, জিয়াউর রহমান দীর্ঘদিন ধরে মাদক গ্রহণে আসক্ত। নেশার টাকা সংগ্রহ করতে তিনি প্রায়ই পরিবারের সদস্যদের ওপর চাপ সৃষ্টি করতেন। একপর্যায়ে পরিস্থিতি এতটাই খারাপ হয়ে ওঠে যে, পরিবারের লোকজন তার আচরণে আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাতে থাকেন।
অভিযোগ রয়েছে, সম্প্রতি নেশার টাকা সংগ্রহের জন্য তিনি শাবল দিয়ে বাড়ির বেড়ার টিন খুলে ফেলেন। পরে সেই টিন বিক্রি করে পাওয়া অর্থ নেশার পেছনে খরচ করেন। শুধু বাড়ির জিনিসপত্রই নয়, একটি ছাগলও মাত্র পাঁচ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, নেশার জন্য টাকা না পেলে জিয়াউর রহমান রাগান্বিত হয়ে পড়তেন। এ সময় বাবা-মাকে ছুরি ও চাকু দেখিয়ে ভয় দেখাতেন এবং বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করতেন। ছেলেকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে পরিবারের পক্ষ থেকে বিভিন্নভাবে চেষ্টা করা হলেও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি।
শেষ পর্যন্ত পরিবারের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে বাবা কঠিন সিদ্ধান্ত নেন। গত ৯ আগস্ট দুপুরে স্থানীয়দের সহায়তায় জিয়াউর রহমানকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।
পরে তাকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেন।
পুলিশ জানিয়েছে, মাদকাসক্তির কারণে পারিবারিক সহিংসতা ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে মাদকের বিস্তার ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি পরিবার ও সমাজের সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।



