প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬, ০৩:২৪ পিএম
লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলায় এক যুবকের ঘরে লাগানো আগুন ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের আরও পাঁচটি বসতঘরে। এতে মোট ৬টি বসতঘরের ২৪টি কক্ষ এবং ঘরে থাকা বিভিন্ন মালামাল পুড়ে গেছে। আগুনে কোনো প্রাণহানির ঘটনা না ঘটলেও কয়েকটি পরিবার ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে। প্রাথমিক হিসাবে এ ঘটনায় প্রায় ১৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
রোববার ভোরে উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের বাসাবাড়ি বাজার এলাকায় এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় বাসিন্দা, পুলিশ ও অগ্নিনির্বাপণ কর্মীদের সূত্রে জানা গেছে, সোহেল হোসেন নামের এক যুবক নিজের ঘরে পেট্রোল ঢেলে আগুন লাগিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। পাশাপাশি থাকা কয়েকটি বসতঘর আগুনের কবলে পড়ে এবং দ্রুত পুড়ে যায়। আগুনের তীব্রতায় ঘরের ভেতরে থাকা আসবাবপত্র, প্রয়োজনীয় সামগ্রীসহ বিভিন্ন মালামালও রক্ষা করা সম্ভব হয়নি।
ঘটনার খবর পেয়ে জরুরি সেবা নম্বরে ফোন করা হলে রায়পুর থেকে দুটি এবং লক্ষ্মীপুর থেকে একটি অগ্নিনির্বাপণ দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। তিনটি দলের সম্মিলিত চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হলেও এর আগেই ২৪ কক্ষবিশিষ্ট ছয়টি বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এদিকে আগুন দেওয়ার অভিযোগে স্থানীয় লোকজন সোহেলকে আটক করে মারধর করেন বলে জানা গেছে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করে। কী কারণে তিনি নিজের ঘরে আগুন লাগিয়েছেন, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত কারণ জানার চেষ্টা করা হবে।
রায়পুর উপজেলা অগ্নিনির্বাপণ কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, আগুনে ছয়টি বসতঘরের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১৫ লাখ টাকা বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, সোহেলের বিরুদ্ধে আগুন লাগানোর অভিযোগ তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সুস্থ হওয়ার পর তার বক্তব্য নেওয়া হবে।
উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর তালিকা তৈরি করে প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে বলে প্রশাসন জানিয়েছে। ভয়াবহ এ অগ্নিকাণ্ডের পর ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো এখন তাদের ঘরবাড়ি ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী হারিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।



