প্রকাশিত: আগস্ট ২৯, ২০২৬, ১০:০৪ পিএম
লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলায় সুপারি গাছে উঠতে রাজি না হওয়াকে কেন্দ্র করে রিয়াদ হোসেন নামে ১২ বছরের এক শিশুকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় রুবেল হোসেন নামে এক তরুণকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক রয়েছেন। তাঁকে আটকের জন্য পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।
শনিবার সন্ধ্যায় সদর উপজেলার চররুহিতা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের চররুহিতা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত রিয়াদ ওই এলাকার অটোরিকশাচালক শাহেদ হোসেনের ছেলে। অভিযুক্ত রুবেল একই এলাকার বাসিন্দা এবং তাঁর বাবার নাম মো. মিলন।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার কিছু সময় আগে রুবেল রিয়াদকে একটি সুপারি গাছে উঠতে বলেন। কিন্তু রিয়াদ এতে রাজি হয়নি। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। একপর্যায়ে রুবেল ক্ষিপ্ত হয়ে রিয়াদকে ছুরি দিয়ে আঘাত করেন বলে অভিযোগ।
ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে রিয়াদ। পরে স্থানীয়রা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
ঘটনার পর অভিযুক্ত রুবেল ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। স্থানীয় লোকজন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাঁকে খুঁজছে। স্থানীয় বিএনপির এক নেতা জানিয়েছেন, সুপারি গাছে না ওঠাকে কেন্দ্র করেই রিয়াদকে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে বলে তাঁরা জানতে পেরেছেন। তাঁর দাবি, অভিযুক্ত ব্যক্তি মাদক সেবনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে। লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ ওয়াহিদ পারভেজ জানিয়েছেন, খবর পাওয়ার পর পুলিশ সদস্যদের ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
এদিকে মাত্র একটি সামান্য বিষয়কে কেন্দ্র করে একটি শিশুর প্রাণহানির ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। রিয়াদের পরিবারের সদস্যরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের অনেকে বলছেন, শিশুদের সঙ্গে যেকোনো ধরনের বিরোধ বা রাগের পরিস্থিতিতে ধৈর্য ও সংযমের পরিচয় দেওয়া জরুরি। সামান্য বিষয় নিয়ে সহিংসতায় জড়িয়ে পড়ার কারণে একটি পরিবারের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন করে দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের পর ঘটনার বিস্তারিত কারণ ও পরিস্থিতি আরও স্পষ্ট হবে। শিশুটির মরদেহের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।



