রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ইতালি প্রবাসী স্বামীকে রেখে দেশে ফিরে প্রেমিককে বিয়ে ৪ সন্তানের জননীর

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: আগস্ট ২৬, ২০২৬, ০৯:০৩ পিএম

ইতালি প্রবাসী স্বামীকে রেখে দেশে ফিরে  প্রেমিককে বিয়ে ৪ সন্তানের জননীর

সংগৃহীত

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে ইতালি প্রবাসী স্বামীকে তালাক না দিয়েই অন্য এক ব্যক্তিকে বিয়ে করার অভিযোগ উঠেছে চার সন্তানের জননী এক নারীর বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে স্বামীর প্রায় ৩ কোটি টাকা ও স্বর্ণালংকার আত্মসাতের অভিযোগও করা হয়েছে তার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ওই নারীর স্বামীর বোন থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

বুধবার (২৬ আগস্ট) দুপুরে রায়পুর থানায় অভিযোগটি করেন মারুফা বেগম। অভিযোগে মুন্নি আক্তার জেসমিনের বিরুদ্ধে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক, স্বামীর সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করা এবং অর্থ ও স্বর্ণালংকার নিয়ে যাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, প্রায় ২২ বছর আগে পারিবারিকভাবে জাকির হোসেন ও মুন্নি আক্তার জেসমিনের বিয়ে হয়। তাদের চার সন্তান রয়েছে। জাকির কর্মসূত্রে ইতালিতে যাওয়ার পর ২০০৯ সালে স্ত্রীকেও সেখানে নিয়ে যান। একপর্যায়ে মুন্নির সঙ্গে কয়েকজন বাংলাদেশি যুবকের যোগাযোগ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ তৈরি হয় বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।

প্রায় দুই মাস আগে মুন্নি বাবার অসুস্থতার কথা জানিয়ে দুই সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশে ফিরে আসেন। দেশে ফেরার পর স্বামীর সঙ্গে তার যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায় বলে অভিযোগকারীদের দাবি। এর মধ্যেই তিনি রায়পুরের বামনী ইউনিয়নের পূর্ব কাঞ্চনপুর এলাকার সৌরভ হোসেন চুট্টু নামের এক ব্যক্তিকে বিয়ে করেছেন বলে অভিযোগ ওঠে।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ইতালি থেকে দেশে ফেরার সময় মুন্নির কাছে জাকিরের দেওয়া প্রায় ২৫ ভরি স্বর্ণালংকার, নগদ অর্থ ও ব্যাংকের কার্ড ছিল। এসব ব্যবহার করে প্রায় ৩ কোটি টাকা নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন জাকিরের স্বজনেরা।

জাকিরের বোন মারুফা বেগম বলেন, তার ভাই স্ত্রীকে তালাক দেননি। এরপরও মুন্নি অন্য একজনকে বিয়ে করেছেন। পাশাপাশি স্বামীর অর্থ-সম্পদ নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে। এ ঘটনায় তাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়েও পরিবারটি উদ্বিগ্ন বলে জানান তিনি।

তবে মুন্নির দাবি, ইতালিতে থাকাকালে তার স্বামী তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতেন। এ কারণে বাধ্য হয়ে তিনি অন্য একজনকে বিয়ে করেছেন। স্বামীর অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, এ অভিযোগ সত্য নয়। তবে স্বামীকে তালাক দেওয়ার বিষয়টি তিনি স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করতে পারেননি।

রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নিজাম উদ্দিন ভূঁইয়া জানান, উভয় পক্ষের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ঘটনায় আদালতেও মামলা রয়েছে বলে তিনি জানান।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!