প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬, ০৫:৫৯ পিএম
লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার শাকচর ইউনিয়নে পুকুরের পানিতে ডুবে একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ইউনিয়নের শাকচর এলাকার ইব্রাহিম পাটোয়ারী বাড়ির পুকুরে গোসল করতে গিয়ে মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত তিনজনের মধ্যে একজন বৃদ্ধ এবং অন্য দুজন তাঁর নাতি-নাতনি। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
নিহতরা হলেন—আবু সিদ্দিক (৭০), তাঁর নাতি পিয়াস (৮) এবং নাতনি পপি আক্তার (৬)। আবু সিদ্দিক একই এলাকার আব্দুল মান্নান পাটোয়ারীর ছেলে। তাঁর নাতি পিয়াস ছেলে আব্দুল আজিজের সন্তান এবং নাতনি পপি মেয়ে সুমি আক্তারের সন্তান বলে জানা গেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, দুপুরের দিকে আবু সিদ্দিক তাঁর দুই নাতি-নাতনিকে সঙ্গে নিয়ে বাড়ির সামনের পুকুরে গোসল করতে যান। কিছুক্ষণ পর তিনি পানিতে ডুবে যান। দীর্ঘ সময় পার হলেও তাঁকে আর পানির ওপর উঠতে দেখা যায়নি। বিষয়টি বুঝতে পেরে দুই শিশু দাদাকে খুঁজতে পানিতে নামে। একপর্যায়ে তারাও পানিতে তলিয়ে যায়।
ঘটনার পর আশপাশের লোকজন বিষয়টি জানতে পেরে দ্রুত পুকুরের দিকে ছুটে যান। স্থানীয়রা প্রায় এক ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে পানির ভেতর থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করেন। পরে তাঁদের স্বজনদের কাছে খবর দেওয়া হলে বাড়িতে নেমে আসে শোকের মাতম।
স্থানীয়দের ধারণা, পুকুরে নামার পর আবু সিদ্দিক পানিতে ডুবে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। তিনি দীর্ঘ সময় পানির নিচে থাকায় তাঁকে খুঁজতে নেমেছিল দুই নাতি-নাতনি। দাদাকে উদ্ধারের চেষ্টা করতে গিয়েই তারা পানিতে তলিয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করছেন স্থানীয়রা। তবে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরবর্তী তদন্ত ও তথ্যের ভিত্তিতেই নিশ্চিত হওয়া যাবে।
শাকচর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মেহেদী হাসান ফারুক বলেন, একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যু অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। ঘটনাটি এলাকায় গভীর শোকের সৃষ্টি করেছে।
খবর পেয়ে সদর মডেল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনাটি সম্পর্কে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
একসঙ্গে পরিবারের তিন সদস্যকে হারিয়ে স্বজনরা এখন শোকে স্তব্ধ। স্থানীয় বাসিন্দারাও ঘটনাটিকে অত্যন্ত মর্মান্তিক হিসেবে বর্ণনা করেছেন। বিশেষ করে অল্প বয়সী দুই শিশুর মৃত্যুতে এলাকায় গভীর শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
পুকুরে গোসল বা খেলাধুলার সময় শিশুদের নিরাপত্তার বিষয়টি আবারও সামনে এনেছে এ ঘটনা। বাড়ির কাছাকাছি থাকা জলাশয়ে শিশুদের একা যেতে না দেওয়া এবং পানিতে নামার সময় বড়দের সতর্ক নজরদারি রাখার প্রয়োজনীয়তাও নতুন করে মনে করিয়ে দিয়েছে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা।



