প্রকাশিত: আগস্ট ৩, ২০২৬, ১০:৫৬ এএম
বর্ষার জলাবদ্ধ মাঠে আমন ধানের জমি প্রস্তুতের কাজ শুরু হতেই ফুটে উঠেছে গ্রামবাংলার এক চিরচেনা মনোমুগ্ধকর দৃশ্য। জমিতে ট্রাক্টর চালিয়ে চাষ করার সময় কাদামাটি উল্টে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ভেসে উঠছে নানা ধরনের দেশি মাছ। আর সেই মাছ ধরতে হাতে গামলা, বালতি ও ছোট পাত্র নিয়ে ট্রাক্টরের পেছনে ছুটে বেড়াচ্ছে শিশু-কিশোররা। কৃষিকাজের ব্যস্ততার মাঝেই এমন দৃশ্য গ্রামজুড়ে সৃষ্টি করেছে উৎসবমুখর পরিবেশ।
সম্প্রতি কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার দুলালপুর ইউনিয়নের বালিনা এলাকার বিস্তীর্ণ জলাবদ্ধ কৃষিজমিতে দেখা গেছে এই ব্যতিক্রমী চিত্র। বিকেলের দিকে জমি চাষ শুরু হলে আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে শিশু-কিশোররা মাঠে জড়ো হয়। কেউ হাঁটুসমান কাদাপানিতে নেমে, আবার কেউ ট্রাক্টরের পেছন পেছন দৌড়ে মাছ ধরতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। তাদের হাসি, উচ্ছ্বাস আর আনন্দে পুরো মাঠ প্রাণ ফিরে পায়।
স্থানীয়দের মতে, বর্ষাকালে দীর্ঘ সময় জমিতে পানি জমে থাকায় আশপাশের খাল, ডোবা ও জলাশয় থেকে বিভিন্ন প্রজাতির দেশি মাছ এসব জমিতে আশ্রয় নেয়। পরে জমি চাষের সময় লাঙলের আঘাতে মাটি সরে গেলে কৈ, শিং, পুঁটি, টেংরা, মাগুর, চিংড়িসহ নানা ধরনের মাছ সহজেই ওপরে উঠে আসে। তখন শিশুদের পাশাপাশি অনেক বড়রাও মাছ ধরার আনন্দে অংশ নেন।
মাছ ধরতে আসা কয়েকজন কিশোর জানায়, ট্রাক্টর মাঠে নামার খবর পেলেই তারা বন্ধুদের নিয়ে ছুটে আসে। মাছ ধরার এই আনন্দ তাদের কাছে বর্ষাকালের সবচেয়ে আকর্ষণীয় অভিজ্ঞতাগুলোর একটি। অল্প সময়েই বেশ কিছু মাছ পাওয়া যায়, যা বাড়িতে নিয়ে গেলে পরিবারের সদস্যরাও আনন্দিত হন।
স্থানীয় প্রবীণ বাসিন্দারা জানান, একসময় বর্ষার মৌসুমে এমন দৃশ্য আরও বেশি দেখা যেত। এখন দেশি মাছের সংখ্যা আগের তুলনায় কমে গেলেও জলাবদ্ধ মাঠে এখনো সেই ঐতিহ্যের কিছুটা রূপ টিকে আছে। তাদের মতে, এই দৃশ্য শুধু মাছ ধরার নয়, বরং গ্রামীণ সংস্কৃতি, শৈশবের স্মৃতি এবং প্রকৃতিনির্ভর জীবনের এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি।
শিক্ষাবিদদের ভাষ্য, প্রযুক্তিনির্ভর কৃষিকাজের এই সময়ে এমন দৃশ্য নতুন প্রজন্মকে প্রকৃতির কাছাকাছি নিয়ে আসে। কৃষিকাজ ও বর্ষার সৌন্দর্য একসঙ্গে মিলেমিশে গ্রামবাংলার যে আবহ তৈরি করে, তা দেশের লোকজ ঐতিহ্যের এক অনন্য অংশ হয়ে থাকবে।



