রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

পদ্মার তীব্র ভাঙনে আতঙ্কে রাজবাড়ীর নদীপাড়ের মানুষ

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: আগস্ট ৮, ২০২৬, ১১:০৫ এএম

পদ্মার তীব্র ভাঙনে আতঙ্কে রাজবাড়ীর নদীপাড়ের মানুষ

ফাইল ছবি

রাজবাড়ীর সদর ও গোয়ালন্দ উপজেলায় পদ্মা নদীর ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। নদীর প্রবল স্রোতে প্রতিদিনই নতুন নতুন এলাকা ভাঙনের কবলে পড়ছে। এতে বসতবাড়ি, ফসলি জমি, রাস্তাঘাট ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। নদীর তীরে বড় বড় ফাটল দেখা দেওয়ায় আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন পদ্মাপাড়ের বাসিন্দারা।

সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, রাজবাড়ী সদর উপজেলার প্রায় ৯ কিলোমিটার এলাকা ভাঙনের উচ্চঝুঁকিতে রয়েছে। অন্যদিকে গোয়ালন্দ উপজেলার দেবগ্রাম ইউনিয়ন, দৌলতদিয়া নৌঘাটসহ প্রায় ৫ কিলোমিটার এলাকাও রয়েছে ঝুঁকির মধ্যে। কোথাও নদীর পাড়ে ফাটল ধরছে, আবার কোথাও হঠাৎ করে মাটি ধসে নদীতে চলে যাচ্ছে। ফলে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার অনেক পরিবার আগেভাগেই ঘরবাড়ি সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

দৌলতদিয়া নৌঘাট দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ নৌযোগাযোগের একটি পথ। প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ ও যানবাহন এই পথ ব্যবহার করে। ফলে ঘাট ও আশপাশের এলাকায় ভাঙন আরও বাড়লে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি দেশের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগব্যবস্থাও বড় ধরনের সংকটে পড়তে পারে।

ভাঙন ঠেকাতে কয়েকটি এলাকায় বালুভর্তি বিশেষ বস্তা ফেলে প্রতিরোধের কাজ চলছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, সদর ও গোয়ালন্দ উপজেলার প্রায় ১৪ কিলোমিটার এলাকা ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার মধ্যে বিদ্যালয়, মসজিদ, মন্দিরসহ বিভিন্ন স্থাপনা রয়েছে। এসব স্থাপনাকে অগ্রাধিকার দিয়ে কয়েকটি স্থানে প্রতিরোধকাজ শুরু হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, প্রতিবছর ভাঙন শুরু হলে জরুরি ভিত্তিতে বালুভর্তি বস্তা ফেলে সাময়িক প্রতিরোধ গড়ে তোলা হয়। কিন্তু কিছুদিন পর অন্য এলাকায় আবার ভাঙন শুরু হয়। এতে দীর্ঘমেয়াদে কোনো সমাধান হচ্ছে না। তাদের দাবি, নদীর গতিপথ, স্রোতের চাপ ও তীরের প্রকৃতি বিবেচনায় নিয়ে স্থায়ী প্রতিরোধব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও দৌলতদিয়া ও দেবগ্রামের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গুরুত্বপূর্ণ এলাকা রক্ষায় নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী প্রতিরোধকাজ চালিয়ে যাওয়া হবে।

নদীপাড়ের মানুষের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ও স্থায়ী ব্যবস্থা না নেওয়া হলে ভাঙনের বিস্তার আরও বাড়তে পারে। এতে বহু পরিবার তাদের শেষ সম্বল বসতভিটা ও কৃষিজমি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!