প্রকাশিত: আগস্ট ২৬, ২০২৬, ০৫:১৭ পিএম
রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দিতে স্বামীর দায়ের করা যৌতুক নিরোধ আইনের মামলায় তানিয়া খাতুন (২২) নামে এক নারীকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বালিয়াকান্দি আমলি আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করলে বিচারক আরিফ হোসেন তা নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
আদালত ও মামলার নথি সূত্রে জানা গেছে, তানিয়া খাতুন বালিয়াকান্দি উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের খালকুলা গ্রামের মোহন মল্লিকের মেয়ে। তিনি একটি বেসরকারি হাসপাতালে কর্মরত।
পারিবারিকভাবে রাজবাড়ী সদর উপজেলার বিনোদপুর গ্রামের মো. সাখাওয়াত হোসেনের সঙ্গে তানিয়ার বিয়ে হয়। বাদীপক্ষের দাবি, বিয়ের সময় তানিয়াকে স্বর্ণালংকারসহ বিভিন্ন উপহারসামগ্রী দেওয়া হয়েছিল। তবে বিয়ের পর তাদের দাম্পত্য জীবনে যৌতুক নিয়ে বিরোধ দেখা দেয়।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, বিয়ের পর তানিয়া স্বামীর কাছে পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন। দাবিকৃত অর্থ না দিলে স্বামীর সঙ্গে সংসার করবেন না বলেও তিনি জানান বলে অভিযোগ করা হয়েছে। একপর্যায়ে তানিয়া স্বামীর বাড়ি ছেড়ে বাবার বাড়িতে চলে যান।
পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে দুই পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে সালিশের মাধ্যমে একাধিকবার সমাধানের চেষ্টা করা হয় বলে মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া আইনগত সহায়তার মাধ্যমেও বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু অভিযোগ অনুযায়ী, যৌতুকের টাকা না পেলে তানিয়া সংসারে ফিরে যেতে রাজি হননি।
এরপর সাখাওয়াত হোসেন বাদী হয়ে ২০১৮ সালের যৌতুক নিরোধ আইনের ৩ ধারায় বালিয়াকান্দি আমলি আদালতে মামলা করেন। মামলাটি সি.আর. মামলা হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে।
বাদীপক্ষের আইনজীবী গোলাম মোস্তফা জানান, মামলার তদন্ত শেষে আদালত তানিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। পরে তিনি আদালতে স্বেচ্ছায় হাজির হয়ে সংসার করার শর্তে জামিন পান। এরপর উভয় পক্ষের আইনজীবীদের মাধ্যমে কয়েক দফা আপসের চেষ্টা করা হয়। লিগ্যাল এইডের মাধ্যমেও বিরোধ নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।
আইনজীবীর ভাষ্য, পরবর্তী সময়ে তানিয়া বাদীর সঙ্গে সংসার করতে সম্মত না হওয়ায় এবং পূর্বের মীমাংসা কার্যকর না হওয়ায় আদালত তার জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
মামলার বাদী সাখাওয়াত হোসেন অভিযোগ করেন, বিয়ের পর থেকে যৌতুকের দাবিকে কেন্দ্র করে তিনি পারিবারিক অশান্তির মধ্যে ছিলেন। সামাজিক ও পারিবারিকভাবে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেও সফল না হওয়ায় তিনি আইনের আশ্রয় নিয়েছেন বলে জানান।
এদিকে মামলার অভিযোগের বিষয়ে তানিয়া খাতুন বা তার আইনজীবীর বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোর সত্যতা সম্পর্কে আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না।



