প্রকাশিত: আগস্ট ২২, ২০২৬, ০৮:১৫ পিএম
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে নিজ বসতঘরে ঢুকে মো. ফারুক শেখ (৩৫) নামে এক যুবককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুরের দিকে পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের জামতলা এলাকার ইছাক মিয়া পাড়ায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
নিহত ফারুক শেখ ওই এলাকার খালেক শেখের ছেলে। তিনি দৌলতদিয়া এলাকার একটি নিষিদ্ধ পল্লীর কাছে চায়ের দোকান চালাতেন। প্রতিদিনের মতো শনিবার সকালে দোকানের কাজ শেষ করে বাড়িতে ফিরে নিজ ঘরে বিশ্রাম নিতে যান তিনি।
পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সময় এলাকায় বিদ্যুৎ না থাকায় ঘরের দরজা খোলা ছিল। এ সুযোগে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি বা ব্যক্তিরা ঘরে প্রবেশ করে ফারুকের ওপর হামলা চালায়। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তার গলা ও হাতে গুরুতর জখম হয়। পরে হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
দুপুরের দিকে ফারুকের বড় ভাই ফরিদ শেখ তার জন্য খাবার নিয়ে বাড়িতে যান। ঘরে প্রবেশ করে তিনি মেঝেতে রক্তাক্ত অবস্থায় ফারুককে পড়ে থাকতে দেখেন। বিষয়টি দেখে তিনি চিৎকার শুরু করলে পরিবারের অন্য সদস্য ও আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন। পরে খবর দেওয়া হয় পুলিশকে।
ফরিদ শেখ জানান, ভাইয়ের জন্য দুপুরের খাবার নিয়ে বাড়িতে গিয়ে তিনি ঘর খোলা দেখতে পান। ভেতরে ঢুকে ফারুককে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে পরিবারের সদস্যদের খবর দেন। পরে পুলিশ এসে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।
পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, ফারুক এর আগে একাধিক বিয়ে করেছিলেন। তবে হত্যাকাণ্ডের সময় তার কোনো স্ত্রী সঙ্গে ছিলেন না। হত্যার পেছনে পারিবারিক বিরোধ, ব্যক্তিগত শত্রুতা নাকি অন্য কোনো কারণ রয়েছে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে ফারুকের মরদেহ উদ্ধার করে। ঘটনাস্থল থেকে প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহের জন্য অপরাধস্থল পরিদর্শনকারী দলকে খবর দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, হত্যার কারণ উদ্ঘাটন এবং জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে একাধিক দল কাজ করছে। ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত এবং কেন ফারুককে হত্যা করা হয়েছে, তা তদন্তের মাধ্যমে বের করার চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।



