প্রকাশিত: আগস্ট ৯, ২০২৬, ১২:১৮ পিএম
কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে তালাকপ্রাপ্ত পুত্রবধূকে আবারও বাড়িতে ফিরিয়ে আনার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে গুরুতর আহত এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। শনিবার দুপুরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাবেয়া খাতুন (৩৯) মারা যান। তিনি শিলাইদহ ইউনিয়নের মাজগ্রাম এলাকার বাসিন্দা মকছেদ আলীর স্ত্রী।
পারিবারিক সূত্র ও স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় তিন মাস আগে পারিবারিক বিরোধের জেরে রাবেয়ার বড় ছেলে সুমনের সঙ্গে তাঁর স্ত্রী বৃষ্টির বিচ্ছেদ হয়। পরে গত ৪ আগস্ট রাবেয়া ও তাঁর ছেলে বৃষ্টিকে আবার বাড়িতে ফিরিয়ে আনেন। এ ঘটনা নিয়ে পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে বিরোধের সৃষ্টি হয় বলে অভিযোগ।
স্বজনদের দাবি, বৃষ্টিকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনার বিষয়টি নিয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে কয়েকজন যুবক রাবেয়ার বাড়িতে যান। তাঁদের হাতে লোহার রড, চাপাতি, বাঁশের লাঠি, কাঠের বাটাম ও হাতুড়িসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র ছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে। সেখানে প্রথমে কথা-কাটাকাটি এবং পরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে।
সংঘর্ষের একপর্যায়ে রাবেয়া মাথায় গুরুতর আঘাত পান। স্বজনেরা তাঁকে দ্রুত কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে দুই দিন চিকিৎসা দেওয়ার পর তাঁর অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় চিকিৎসকের পরামর্শে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার তাঁর মৃত্যু হয়।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, পূর্ববিরোধের জের ধরে কয়েকজন স্বজন রাবেয়াকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত ও মারধর করেছেন। এ ঘটনায় নিহতের ভাই সাইদুল রহমান বাদী হয়ে পাঁচজনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেছেন। মামলার পর অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।
তবে অভিযুক্তদের পরিবারের সদস্যরা হত্যার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁদের দাবি, বৃষ্টিকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনার বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। মারামারির মধ্যে কে কাকে আঘাত করেছে, তা তাঁরা জানেন না। তাঁদের দাবি, অভিযুক্ত কয়েকজনও সংঘর্ষে আহত হয়েছেন।
নিহতের স্বামী মকছেদ আলী বলেন, পরিবারের অন্য সদস্যদের না জানিয়ে তাঁর স্ত্রী পুত্রবধূকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনায় বিরোধের সূত্রপাত হয়। এরপর কয়েকজন এসে হামলা চালালে তাঁর স্ত্রী গুরুতর আহত হন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
নিহতের পুত্রবধূ বৃষ্টিও ঘটনার বর্ণনায় বলেন, তাঁকে আবার বাড়িতে ফিরিয়ে আনার পর কয়েকজন এসে তাঁর শাশুড়ি, স্বামী ও দেবরের সঙ্গে কথা-কাটাকাটিতে জড়ান। একপর্যায়ে ব্যাপক মারামারি শুরু হয়। অন্ধকার থাকায় কে কাকে আঘাত করেছে, তা তিনি স্পষ্টভাবে দেখতে পারেননি। তাঁর স্বামীও মারধরের শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।
কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামাল উদ্দিন জানিয়েছেন, তালাকপ্রাপ্ত পুত্রবধূকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। ওই ঘটনায় আহত রাবেয়া চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।



