প্রকাশিত: আগস্ট ৯, ২০২৬, ০৭:৫৭ পিএম
বরিশালের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, নদীঘেরা পরিবেশ এবং স্থানীয় মানুষের আন্তরিকতায় মুগ্ধ হয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন। প্রথমবার বরিশাল সফরে এসে নৌভ্রমণ ও ভাসমান পেয়ারা বাজার ঘুরে দেখার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বরিশালকে অত্যন্ত সুন্দর স্থান হিসেবে উল্লেখ করেছেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশের পেয়ারা আন্তর্জাতিক বাজারে, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানির সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
রোববার (৯ আগস্ট) দুপুরে কীর্তনখোলা নদীতে বরিশাল প্রেসক্লাবের আয়োজনে একটি নৌভ্রমণে অংশ নেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত। এ সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বরিশালের সৌন্দর্য ও ভ্রমণের অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলেন।
রাষ্ট্রদূত জানান, বরিশালে এটাই তাঁর প্রথম সফর। নদীপথে ভ্রমণ তাঁর বিশেষ পছন্দের এবং বরিশালে এসে তিনি ভাসমান বাজার দেখার সুযোগ পেয়েছেন। স্থানীয় পরিবেশ ও মানুষের সঙ্গে পরিচিত হতে পেরে তিনি আনন্দিত বলেও জানান।
বরিশাল শহরের সৌন্দর্যের প্রশংসা করে ক্রিস্টেনসেন বলেন, এখানকার পরিবেশ যেমন আকর্ষণীয়, তেমনি স্থানীয় মানুষের ব্যবহারও তাঁকে মুগ্ধ করেছে। নদী, নৌকা ও ভাসমান বাজারকে ঘিরে বরিশালের স্বতন্ত্র জীবনযাত্রা তাঁর কাছে বিশেষভাবে আকর্ষণীয় বলে জানান তিনি।
এ সময় বাংলাদেশের পেয়ারা উৎপাদন ও রপ্তানির সম্ভাবনাও উঠে আসে। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত পেয়ারা দেশের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে আরও বড় পরিসরে পৌঁছাতে পারে বলে তিনি মনে করেন। কৃষিপণ্য রপ্তানি বাড়ানোর মাধ্যমে বাংলাদেশের কৃষক ও অর্থনীতি উপকৃত হওয়ার সুযোগ রয়েছে বলেও সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।
নৌভ্রমণে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সহধর্মিণী ডিয়ান ডাওকসহ সরকারি কর্মকর্তা এবং বরিশাল প্রেসক্লাবের নেতারা অংশ নেন। বরিশাল নদীবন্দর থেকে নৌযাত্রা শুরু করে ঝালকাঠির দিকে যাত্রা করে নৌবহরটি।
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কও গুরুত্বপূর্ণ। মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বরিশাল সফরকে স্বাগত জানিয়ে তিনি ভবিষ্যতেও তাঁকে বরিশালে আসার আহ্বান জানান।
এর আগে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে মার্কিন রাষ্ট্রদূত বরিশাল সদর উপজেলার রায়পাশা-কড়াপুর ইউনিয়নে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী মিয়াবাড়ি মসজিদ পরিদর্শন করেন। সেখানে তিনি মসজিদের স্থাপত্যশৈলী ও ঐতিহাসিক বৈশিষ্ট্য ঘুরে দেখেন।
রাষ্ট্রদূতের এ সফরে বরিশালের নদী, প্রকৃতি, ঐতিহ্য ও কৃষিপণ্যের সম্ভাবনা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরার একটি সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।



