প্রকাশিত: আগস্ট ১১, ২০২৬, ১০:৩৫ এএম
মৌলভীবাজারের কুলাউড়া সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর গুলিতে নিহত বাংলাদেশি তরুণ মো. তারা মিয়ার মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। সোমবার (১০ আগস্ট) সন্ধ্যায় চাতলাপুর শুল্ক স্টেশন ও অভিবাসন তল্লাশি কেন্দ্র এলাকায় দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে পতাকা বৈঠকের পর মরদেহ হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
পরে ভারতীয় পুলিশ মরদেহটি কুলাউড়া থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। আইনি প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর নিহতের বড় ভাই রাজু মিয়া তার মরদেহ গ্রহণ করেন। তারা মিয়া কুলাউড়া উপজেলার কর্মধা ইউনিয়নের মুরইছড়া বস্তি এলাকার বাসিন্দা আব্দুল মালেকের ছেলে। তার বয়স হয়েছিল ১৯ বছর।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ৮ আগস্ট গভীর রাতে তারা মিয়াসহ কয়েকজন বাংলাদেশি তরুণ সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের অভ্যন্তরে প্রবেশ করেন। সেখানে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর টহল দলের সঙ্গে তাদের মুখোমুখি হওয়ার পর উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে গুলির ঘটনা ঘটলে তারা মিয়া ঘটনাস্থলেই নিহত হন। তার সঙ্গে থাকা অন্যরা সেখান থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে ফিরে আসেন।
ঘটনার পর ভারতীয় পুলিশ তারা মিয়ার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। পরে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে যোগাযোগ ও প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মরদেহ দেশে ফেরানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়।
সোমবার চাতলাপুর সীমান্তে অনুষ্ঠিত পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে সেই প্রক্রিয়া শেষ হয়। বৈঠকে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পরে আনুষ্ঠানিকভাবে মরদেহ বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে দেওয়া হয়।
কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ জহিরুল ইসলাম মুন্না জানান, দুই দেশের আইনি প্রক্রিয়া শেষে চাতলাপুর সীমান্ত দিয়ে তারা মিয়ার মরদেহ গ্রহণ করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।
মরদেহ পরিবারের কাছে পৌঁছানোর পর এলাকায় শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। স্বজনেরা তারা মিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। সীমান্ত এলাকায় তরুণদের অবৈধভাবে প্রবেশ ও ঝুঁকিপূর্ণ কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়া ঠেকাতে স্থানীয়দের আরও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।



