রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

বসতঘরের সিঁড়ির নিচ থেকে বিষধর ‘কোবরা’র ৫ বাচ্চা উদ্ধার

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬, ০৮:০৬ পিএম

বসতঘরের সিঁড়ির নিচ থেকে বিষধর ‘কোবরা’র ৫ বাচ্চা উদ্ধার

ছবি: সংগৃহীত

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে একটি বসতঘরের সিঁড়ির নিচ থেকে অত্যন্ত বিষধর মনোক্লেড কোবরা সাপের পাঁচটি বাচ্চা উদ্ধার করা হয়েছে। একসঙ্গে এতগুলো বিষধর সাপের বাচ্চা দেখতে পেয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। পরে স্থানীয় বন্যপ্রাণী সংরক্ষণকর্মীদের সহায়তায় সাপগুলো নিরাপদে উদ্ধার করা হয়।

বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার দিকে কমলগঞ্জ মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের পাশের পানিশালা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। জাপানপ্রবাসী মুজাহিদ আলীর বসতঘরের সিঁড়ির নিচে কয়েকটি সাপের বাচ্চা দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। প্রথমে বিষয়টি দেখে তারা বুঝতে পারেননি সাপগুলো কোন প্রজাতির। তবে একসঙ্গে একাধিক সাপ দেখতে পেয়ে পরিবারের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

পরিবারের সদস্যরা সাপগুলো উদ্ধারের জন্য জরুরি সহায়তা নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। পরে বিষয়টি রাজকান্দি বন বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং স্থানীয় বন্যপ্রাণী সংরক্ষণকর্মীদের জানানো হয়। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান রাজকান্দি রেঞ্জ কর্মকর্তা তানভীর আহমদ, বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল এবং পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ।

ঘরটিতে গিয়ে তারা সিঁড়ির নিচের অংশে থাকা সাপগুলো পর্যবেক্ষণ করেন। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর সেগুলোকে মনোক্লেড কোবরা প্রজাতির বাচ্চা হিসেবে শনাক্ত করা হয়। প্রজাতিটি অত্যন্ত বিষধর হওয়ায় সতর্কতার সঙ্গে সাপগুলো উদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরে একে একে পাঁচটি সাপের বাচ্চা নিরাপদে বের করে আনা হয়।

উদ্ধারের সময় যাতে কোনো সাপ আঘাত না পায় এবং উদ্ধারকারীদেরও ঝুঁকিতে পড়তে না হয়, সেদিকে বিশেষভাবে নজর দেওয়া হয়। সাপগুলো উদ্ধারের পর শ্রীমঙ্গল বন বিভাগের সংশ্লিষ্ট রেঞ্জ কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়। সেখানে সাপগুলোর প্রয়োজনীয় পরিচর্যা ও পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা কাজী নাজমুল ইসলাম জানান, উদ্ধার হওয়া সাপের বাচ্চাগুলোকে উপযুক্ত পরিবেশে বনে অবমুক্ত করা হবে। মানুষের বসতবাড়ির কাছাকাছি চলে আসায় সাপগুলোকে নিরাপদে সরিয়ে নিয়ে পরে প্রাকৃতিক পরিবেশে ফিরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

স্থানীয়দের ধারণা, আশপাশের ঝোপঝাড় কিংবা নিরাপদ কোনো জায়গা থেকে সাপগুলো খাবার বা আশ্রয়ের সন্ধানে বসতঘরের সিঁড়ির নিচে ঢুকে থাকতে পারে। তবে ঠিক কীভাবে সাপের বাচ্চাগুলো সেখানে এলো, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্ষাকালে এবং বৃষ্টির পর অনেক সময় সাপ তাদের স্বাভাবিক আবাসস্থল থেকে অপেক্ষাকৃত শুকনো ও নিরাপদ জায়গার সন্ধানে মানুষের বসতবাড়ির আশপাশে চলে আসে। তাই বাড়ির আশপাশের ঝোপঝাড় পরিষ্কার রাখা এবং কাঠ, ইট, পুরোনো আসবাব বা অন্যান্য সামগ্রী দীর্ঘদিন ফেলে না রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়।

বিশেষ করে বিষধর সাপ দেখা গেলে নিজেরা ধরার চেষ্টা না করে প্রশিক্ষিত উদ্ধারকারী বা বন বিভাগের সহায়তা নেওয়া জরুরি। কারণ সাপের বাচ্চা ছোট হলেও বিষধর প্রজাতির হলে তা মানুষের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

পাঁচটি মনোক্লেড কোবরা উদ্ধারের ঘটনায় ওই বাড়ির পরিবারের সদস্যদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। একই সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও বিষয়টি নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। উদ্ধার হওয়া সাপগুলোকে বনে অবমুক্ত করা হলে তারা আবারও নিজেদের প্রাকৃতিক পরিবেশে ফিরে যাওয়ার সুযোগ পাবে।

ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে মানুষের সঙ্গে বন্যপ্রাণীর সহাবস্থানের বিষয়টিও সামনে এনেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আতঙ্কিত না হয়ে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে খবর দেওয়া হলে মানুষের পাশাপাশি বন্যপ্রাণীকেও নিরাপদ রাখা সম্ভব।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!