প্রকাশিত: আগস্ট ৩১, ২০২৬, ০২:৫১ পিএম
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে রাতের দায়িত্ব পালনকালে পাঁচ চা-শ্রমিককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার রহিমপুর ইউনিয়নের মিতৃংঙ্গা চা-বাগানের একটি সেকশনে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় অজ্ঞাতনামা ১০ থেকে ১২ জনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বাগানের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপক মো. রেজাউল হায়াত খান।
অভিযোগ অনুযায়ী, শনিবার দিবাগত রাত ১টা ৩৫ মিনিটের দিকে মিতৃংঙ্গা চা-বাগানের ২৬ নম্বর সেকশনের সীমানা গেটের পাশে চৌকিদারদের অবস্থানের ঘরে হামলার ঘটনা ঘটে। ওই সময় সেখানে দায়িত্ব পালন করছিলেন বাগানের পাঁচ স্থায়ী শ্রমিক—সুবল মুন্ডা, রাজেশ হাজং, সুমন গড়, ফুল চাঁন উড়াং ও রতন উড়াং।
বাগান কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, রাতের দায়িত্বে থাকা শ্রমিকদের ওপর হঠাৎ করে একদল ব্যক্তি হামলা চালায়। হামলাকারীদের হাতে বাঁশের লাঠি, কাঠের রুল, লোহার রড ও ধারালো দা ছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। হামলায় সুবল মুন্ডা ও রাজেশ হাজংয়ের মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লাগে। এতে তারা রক্তাক্ত জখম হন।
এ ছাড়া সুমন গড়ের শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাতের পাশাপাশি বাঁ হাতে গুরুতর জখম হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। ফুল চাঁন উড়াং ও রতন উড়াংকেও লাঠি ও লোহার রড দিয়ে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
আহত শ্রমিকদের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ছেড়ে চলে যায় বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। এ সময় আহতদের প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছে বাগান কর্তৃপক্ষ।
ঘটনার পর আহত পাঁচ শ্রমিককে প্রথমে মিতৃংঙ্গা চা-বাগানের হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে তাদের হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
বাগানের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপক মো. রেজাউল হায়াত খান জানান, আহত শ্রমিকদের হাসপাতালে নেওয়ার পর তিনি তাদের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার বিস্তারিত জানতে পারেন। পরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে কমলগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. কমর উদ্দিন জানিয়েছেন, এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
ঘটনার পর চা-বাগানের শ্রমিকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। রাতের দায়িত্বে থাকা শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং হামলার কারণ ও জড়িতদের পরিচয় শনাক্ত করতে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।



