প্রকাশিত: আগস্ট ১১, ২০২৬, ১০:৩৯ এএম
এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের অপেক্ষায় ছিল কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ার শিহাব আহমেদ ও তার পরিবার। কিন্তু ফল হাতে পাওয়ার আগেই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিভে যায় ১৬ বছরের এই মেধাবী শিক্ষার্থীর জীবন। মৃত্যুর মাত্র দুই দিন পর প্রকাশিত ফলাফলে জানা গেল, এসএসসিতে গোল্ডেন জিপিএ-৫ অর্জন করেছে শিহাব। সন্তানের এমন অসাধারণ সাফল্যের দিনে তাই আনন্দের বদলে পরিবারে নেমে এসেছে গভীর শোক।
শিহাব আহমেদ ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার শশীদল ইউনিয়নের মানরা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ব্যবসায়ী তোফাজ্জল হোসেনের একমাত্র সন্তান। ঢাকার বিমানবন্দর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন শিহাব। পড়াশোনায় মেধাবী এই শিক্ষার্থীকে ঘিরে পরিবারেরও ছিল অনেক স্বপ্ন।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, চাচার বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পরিবারের সঙ্গে গ্রামে এসেছিলেন শিহাব। গত ৮ আগস্ট দুপুরে গোসলের পর বাড়ির ছাদে কাপড় শুকাতে যান তিনি। সেখানে বিয়ের অনুষ্ঠানের সাজসজ্জার জন্য টানানো বৈদ্যুতিক তারের সংস্পর্শে এসে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন।
গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে দ্রুত উদ্ধার করে কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিহাবকে মৃত ঘোষণা করেন। সেদিনই সন্ধ্যায় পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
এর মাত্র দুই দিন পর সোমবার প্রকাশিত হয় এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল। ফলাফলে শিহাবের গোল্ডেন জিপিএ-৫ পাওয়ার খবর আসে। যে সাফল্যকে ঘিরে পরিবারে উৎসব হওয়ার কথা ছিল, সেই অর্জনই এখন স্বজনদের কাছে হয়ে উঠেছে গভীর বেদনার স্মৃতি।
শিহাবের বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান ছিলেন তিনি। তাই ছেলেকে হারানোর শোক কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না স্বজনরা। ফল প্রকাশের পরও বাড়িতে নেই আনন্দের আয়োজন; বরং প্রিয় সন্তানের স্মৃতি মনে করে কান্নায় ভেঙে পড়ছেন পরিবারের সদস্যরা।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারাও শিহাবের মৃত্যুতে গভীর শোক জানিয়েছেন। তাদের ভাষায়, মেধাবী এই শিক্ষার্থীর এমন আকস্মিক মৃত্যু অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তারা শোক কাটিয়ে ওঠার শক্তি কামনা করেছেন।
এদিকে শিহাবের আত্মার মাগফিরাত কামনায় পরিবারের পক্ষ থেকে দোয়ার আয়োজন করা হয়েছে। একমাত্র সন্তানের কৃতিত্বের খবরটি আজ পুরো পরিবারের কাছে গর্বের হলেও সেই গর্বকে ছাপিয়ে গেছে সন্তান হারানোর অসহনীয় কষ্ট।



