রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

বাবার মরদেহ বাড়িতে রেখে পরীক্ষা, লাবিব পেল গোল্ডেন জিপিএ-৫

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: আগস্ট ১১, ২০২৬, ১১:৫১ এএম

বাবার মরদেহ বাড়িতে রেখে পরীক্ষা, লাবিব পেল গোল্ডেন জিপিএ-৫

সংগৃহীত

বাবাকে হারানোর গভীর শোক নিয়েই এসএসসি পরীক্ষার শেষ বিষয়ে অংশ নিয়েছিল নোয়াখালীর শিক্ষার্থী আবতাহি উদ্দিন লাবিব। পরীক্ষার দিন বাড়িতে পড়ে ছিল বাবার মরদেহ। একদিকে বাবাকে হারানোর অসহনীয় বেদনা, অন্যদিকে জীবনের গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার দায়িত্ব—দুই কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েও ভেঙে পড়েনি লাবিব। শেষ পর্যন্ত বাবার স্বপ্ন পূরণের প্রত্যয়ে পরীক্ষা শেষ করে এবার গোল্ডেন জিপিএ-৫ অর্জন করেছে সে।

সোমবার প্রকাশিত এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে জানা যায়, নোয়াখালী জিলা স্কুলের বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী লাবিব সব বিষয়ে সর্বোচ্চ গ্রেড পেয়েছে। কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে বিদ্যালয়টি থেকে এবার ২৩৫ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদের মধ্যে ১৩১ জন জিপিএ-৫ অর্জন করেছে।

লাবিবের এই ফলাফলের পেছনে রয়েছে এক হৃদয়বিদারক গল্প। গত ২০ মে ছিল তার জীববিজ্ঞান পরীক্ষা। সেটিই ছিল এসএসসি পরীক্ষার শেষ বিষয়। কিন্তু পরীক্ষার আগের রাতেই তার বাবা মফিদুল আলম ঢাকায় হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। পরদিন বাবার মরদেহ বাড়িতে রেখেই পরীক্ষাকেন্দ্রে যায় লাবিব। পরীক্ষা শেষে বাড়িতে ফিরে বাবার জানাজা ও দাফনে অংশ নেয় সে।

মফিদুল আলম চাটখিল মহিলা ডিগ্রি কলেজের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ছিলেন। ৫৪ বছর বয়সে তার মৃত্যু হয়। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, সন্তানের ভালো ফলাফল ও উচ্চশিক্ষা ছিল তার অন্যতম বড় স্বপ্ন। বাবার সেই প্রত্যাশার কথা মনে রেখেই শোক সামলে পরীক্ষায় বসার সিদ্ধান্ত নেয় লাবিব।

ফল প্রকাশের পর লাবিবের আনন্দের সঙ্গে মিশে আছে বাবাকে হারানোর গভীর বেদনা। তার ভাষ্য, বাবা বেঁচে থাকলে এই ফলাফলে সবচেয়ে বেশি খুশি হতেন। ভালো ফলাফল হাতে পেলেও প্রিয় মানুষটি পাশে না থাকায় আনন্দটি পূর্ণতা পাচ্ছে না।

লাবিবের সাফল্যে পরিবার, শিক্ষক ও সহপাঠীদের মধ্যে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষকেরা বলছেন, ব্যক্তিগত জীবনের এত বড় বিপর্যয়ের মধ্যেও দায়িত্ব থেকে সরে না গিয়ে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া এবং সর্বোচ্চ ফল অর্জন করা তার অসাধারণ মানসিক শক্তির পরিচয়।

লাবিবের পরিবারের সদস্যরা মনে করছেন, এই ফলাফল শুধু একটি ভালো ফল নয়; এটি তার প্রয়াত বাবার স্বপ্নের দিকে এগিয়ে যাওয়ার প্রথম বড় পদক্ষেপ। ভবিষ্যতে উচ্চশিক্ষা শেষ করে বাবার প্রত্যাশা পূরণ করাই এখন তার প্রধান লক্ষ্য।

লাবিবের এই অর্জন ইতোমধ্যে নোয়াখালীর শিক্ষাঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কঠিন পরিস্থিতিতে নিজের লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত না হয়ে কীভাবে এগিয়ে যেতে হয়, তার জীবনের এই ঘটনা অন্য শিক্ষার্থীদের জন্যও অনুপ্রেরণার দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!