প্রকাশিত: আগস্ট ১১, ২০২৬, ০৬:১২ পিএম
জীবিকার তাগিদে কৈশোরেই থেমে গিয়েছিল পড়াশোনা। এরপর কেটে গেছে দীর্ঘ ২৪ বছর। সংসারের দায়িত্ব, কর্মব্যস্ততা আর নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও মনের ভেতর লেখাপড়ার স্বপ্নটি বাঁচিয়ে রেখেছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট উপজেলার কাঠমিস্ত্রি মো. নাসিমুল হক। অবশেষে ৪৫ বছর বয়সে সেই স্বপ্ন পূরণ করেছেন তিনি। চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়েছেন নাসিমুল।
ভোলাহাট উপজেলার গোহালবাড়ী ইউনিয়নের তিলোকী গ্রামের বাসিন্দা নাসিমুল হক পেশায় একজন কাঠমিস্ত্রি। পাশাপাশি তিনি ভোলাহাট উপজেলা ফার্নিচার শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। কর্মজীবনের ব্যস্ততার মধ্যেও পড়াশোনায় ফিরে এসে রাজশাহী কমার্স কলেজের ভোকেশনাল শাখা থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন তিনি। প্রকাশিত ফলাফলে তিনি জিপিএ ৪ দশমিক ৬২ অর্জন করেছেন।
নাসিমুলের শিক্ষাজীবনে দীর্ঘ বিরতি আসে ২০০২ সালে। তখন সংসারের দায়িত্ব কাঁধে নেওয়ার প্রয়োজন হওয়ায় পড়াশোনা ছেড়ে কাজে যোগ দিতে হয় তাকে। কাঠের ওপর নকশা করা, আসবাবপত্র তৈরি এবং দিনের দীর্ঘ সময় পরিশ্রম করেই জীবিকা নির্বাহ করেছেন তিনি। তবে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছাটি কখনো হারিয়ে যায়নি।
পরবর্তীতে সন্তানদের পড়াশোনায় উৎসাহ দেওয়া এবং নিজের অপূর্ণ স্বপ্ন পূরণের তাগিদে আবারও বই হাতে নেন নাসিমুল। একদিকে কাজ, অন্যদিকে সংসারের দায়িত্ব—সবকিছু সামলে নিয়মিত পড়াশোনা চালিয়ে যান তিনি।
নিজের সাফল্যে উচ্ছ্বসিত নাসিমুল হক বলেন, তার এক মেয়ে ও দুই ছেলে রয়েছে। সন্তানদের শিক্ষার প্রতি আগ্রহী করে তুলতে এবং নিজেও শিক্ষিত হওয়ার আকাঙ্ক্ষা থেকে তিনি নতুন করে পড়াশোনা শুরু করেন। তার বিশ্বাস, বয়স কখনো শিক্ষার পথে বাধা হতে পারে না। সুযোগ ও ইচ্ছাশক্তি থাকলে যেকোনো সময় নতুন করে শুরু করা সম্ভব।
তার এই অর্জনে আনন্দিত স্থানীয় বাসিন্দা, স্বজন ও সহকর্মীরা। তাদের মতে, সারাদিন কঠোর পরিশ্রম করার পরও পড়াশোনা চালিয়ে গিয়ে এমন ফলাফল অর্জন সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক। নাসিমুলের সাফল্য এলাকার অন্যদেরও জীবনের যে কোনো পর্যায়ে শিক্ষার পথে ফিরে আসার সাহস জোগাবে।
ভোলাহাট উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি ও সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মো. লোকমান আলী বলেন, সংসার ও পেশাগত দায়িত্ব সামলেও ৪৫ বছর বয়সে নাসিমুল যে ফলাফল করেছেন, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। তার এই অর্জনে তারা গর্বিত এবং আনন্দিত।
নাসিমুলের গল্প যেন মনে করিয়ে দেয়—স্বপ্ন পূরণের জন্য বয়স কোনো শেষ সীমা নয়। দৃঢ় ইচ্ছা, পরিশ্রম আর অধ্যবসায় থাকলে বহু বছর পরও থেমে যাওয়া স্বপ্নকে আবার নতুন করে জীবন্ত করা যায়।



