রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ফার্মেসিতে কাজ করেও এসএসসিতে জিপিএ ৫ প্রান্তের

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: আগস্ট ১৩, ২০২৬, ০১:৫১ পিএম

ফার্মেসিতে কাজ করেও এসএসসিতে জিপিএ ৫ প্রান্তের

ছবিঃ সংগৃহীত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরের প্রান্ত দেবনাথের সাফল্যের গল্পটি যেন প্রতিকূলতাকে জয় করার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। পরিবারের আর্থিক সংকট, অসুস্থ বাবার সীমিত আয় এবং নিজের পড়াশোনার খরচ—সবকিছুর সঙ্গে লড়াই করেও এবারের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ অর্জন করেছে সে।

প্রান্তের বাবা পঙ্কজ দেবনাথ পেশায় দর্জি। হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হওয়ায় আগের মতো নিয়মিত কাজ করতে পারেন না তিনি। সেলাইয়ের সামান্য আয় দিয়ে চার সদস্যের সংসার চালানোই যেখানে কঠিন, সেখানে ছেলের পড়াশোনার খরচ বহন করাও পরিবারের জন্য বড় চাপ হয়ে দাঁড়ায়। তাই নিজের শিক্ষার ব্যয় মেটাতে পড়াশোনার পাশাপাশি স্থানীয় একটি ওষুধের দোকানে কাজ শুরু করে প্রান্ত।

দিনের বড় একটি সময় দোকানে কাটলেও পড়াশোনার প্রতি তার আগ্রহে কোনো ঘাটতি ছিল না। কাজের ফাঁকে, দোকানের ব্যস্ততা শেষে কিংবা গভীর রাত পর্যন্ত বই নিয়ে বসে থাকত সে। ব্যক্তিগত মুঠোফোন ব্যবহারে আগ্রহ না থাকায় পড়াশোনাতেই মনোযোগ ধরে রাখত প্রান্ত।

বাঞ্ছারামপুর সরকারি এস এম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের এই শিক্ষার্থী শ্রেণিকক্ষেও ছিল মনোযোগী। বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সহযোগিতা এবং বাবা-মায়ের উৎসাহ তাকে এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করেছে। কোনো গৃহশিক্ষকের কাছে পড়ার সুযোগ না থাকলেও পাঠ্যবই ও শ্রেণিকক্ষের পড়াকে গুরুত্ব দিয়েই পরীক্ষার প্রস্তুতি নেয় সে।

ফল প্রকাশের পর প্রান্তের জিপিএ ৫ পাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই পরিবারে আনন্দের পরিবেশ তৈরি হয়। ছেলের সাফল্যে সবচেয়ে বেশি খুশি বাবা পঙ্কজ দেবনাথ। তিনি বলেন, ছেলের কঠোর পরিশ্রমের ফলেই এই সাফল্য এসেছে।

প্রান্তের স্বপ্ন ভবিষ্যতে চিকিৎসক হওয়া। উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে নিজের স্বপ্ন পূরণের পাশাপাশি পরিবারের পাশে দাঁড়াতে চায় সে। তার এই সাফল্য প্রমাণ করে, অর্থের সীমাবদ্ধতা থাকলেও দৃঢ় ইচ্ছাশক্তি, পরিশ্রম ও অধ্যবসায় থাকলে স্বপ্ন পূরণের পথ তৈরি করা সম্ভব।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!