প্রকাশিত: আগস্ট ১৪, ২০২৬, ০৮:৫৯ এএম
হবিগঞ্জে গ্যাস সংকট ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। কয়েক সপ্তাহ ধরে চাহিদার তুলনায় কম গ্যাস পাওয়ার পর বুধবার (১২ আগস্ট) থেকে জেলার অধিকাংশ শিল্পকারখানায় সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। এতে ছোট-বড় ১৭১টি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে কারখানা বন্ধ থাকলে শ্রমিক-কর্মচারীদের আয়-রোজগার এবং শিল্প খাতের সামগ্রিক কার্যক্রমে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
শিল্পপ্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্টরা জানান, জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময় থেকেই হবিগঞ্জে গ্যাসের চাপ কমতে শুরু করে। শুরুতে কোনো কোনো কারখানায় অনুমোদিত চাহিদার এক-তৃতীয়াংশ বা এক-চতুর্থাংশ গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছিল। এতে সীমিত পরিসরে উৎপাদন চালু রাখা সম্ভব হলেও বুধবার থেকে সরবরাহ একেবারে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সব কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে।
হবিগঞ্জের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে বিপুলসংখ্যক শ্রমিক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী কাজ করেন। গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল কারখানাগুলোতে উৎপাদন বন্ধ হওয়ায় তাদের কর্মসংস্থানও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। অনেক শ্রমিক কর্মস্থলে এসে কাজ না করেই ফিরে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
রপ্তানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো সবচেয়ে বেশি উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে। উৎপাদন বন্ধ থাকায় নির্ধারিত সময়ে বিদেশি ক্রেতাদের কাছে পণ্য পাঠানো সম্ভব না হলে আদেশ বাতিল হওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যবসায়িক সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন উদ্যোক্তারা।
গ্যাসের অভাবে অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠানের নিজস্ব বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থাও বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে গ্যাস সংকটের পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদনেও সমস্যা তৈরি হয়েছে। এতে উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে শিল্পাঞ্চলে স্থবিরতা নেমে এসেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, হবিগঞ্জে থাকা ১৭১টি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে অর্ধশতাধিক প্রতিষ্ঠান পুরোপুরি রপ্তানিনির্ভর। আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান আংশিকভাবে বিদেশে পণ্য রপ্তানি করে। ফলে দীর্ঘস্থায়ী গ্যাস সংকট দেশের উৎপাদন ও রপ্তানি খাতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
গ্যাস সরবরাহকারী কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এটি জাতীয় পর্যায়ের গ্যাস সংকটের অংশ। বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্রে সরবরাহ বাড়াতে গিয়ে শিল্পকারখানায় গ্যাসের পরিমাণ কমাতে হয়েছে। তবে কয়েক দিনের মধ্যে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
শিল্প উদ্যোক্তারা দ্রুত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করার পাশাপাশি সব শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে গ্যাস বণ্টনে সমান ও স্বচ্ছ নীতি অনুসরণের দাবি জানিয়েছেন।



