প্রকাশিত: আগস্ট ১৪, ২০২৬, ১১:১৮ এএম
চট্টগ্রাম নগরে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও গ্যাস না পাওয়ার অভিযোগে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালকেরা। শুক্রবার ভোর থেকে নগরের ষোলশহর এলাকায় কয়েকশ চালক সড়কে অবস্থান নেন। এতে মুরাদপুর থেকে দুই নম্বর গেইট পর্যন্ত সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং আশপাশের এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।
চালকদের অভিযোগ, এক দিন পার হয়ে গেলেও অনেকেই অটোরিকশায় গ্যাস নিতে পারেননি। গ্যাসের জন্য বিভিন্ন ভর্তি কেন্দ্রের সামনে রাত-দিন অপেক্ষা করেও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত সরবরাহ। কখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়েও সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না বলে দাবি তাঁদের।
চালকেরা জানান, অটোরিকশা চালিয়ে উপার্জন করেই তাঁদের সংসার চলে। কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে গ্যাস না পাওয়ায় গাড়ি চালাতে পারছেন না তাঁরা। ফলে একদিকে যেমন আয় বন্ধ হয়ে গেছে, অন্যদিকে পরিবারের দৈনন্দিন খরচ চালানোও কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেকে সারা রাত গাড়ি নিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও গ্যাস না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়েছেন।
ষোলশহরের একটি ভর্তি কেন্দ্রের সামনে গ্যাসের অপেক্ষায় কয়েকশ অটোরিকশা দীর্ঘ সারিতে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। চালকদের ভাষ্য, নগরের বিভিন্ন ভর্তি কেন্দ্রেই প্রায় একই পরিস্থিতি বিরাজ করছে। কোথাও গ্যাস নেই, আবার কোথাও সরবরাহের তুলনায় গাড়ির সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ায় দীর্ঘ সারি তৈরি হয়েছে।
ভর্তি কেন্দ্রের কর্মকর্তারা জানান, সরবরাহ না থাকায় তাঁরা অটোরিকশায় গ্যাস দিতে পারছেন না। সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের পক্ষ থেকে কার্যকর কিছু করার সুযোগ নেই।
এদিকে অটোরিকশা চলাচল কমে যাওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন নগরবাসীও। অনেক যাত্রী দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও যানবাহন পাচ্ছেন না। ফলে মুরাদপুর, ষোলশহর ও দুই নম্বর গেইট এলাকায় সকাল থেকেই যানজট ও জনদুর্ভোগ দেখা দেয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে পুলিশ অবস্থান নেয়। পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জাহেদুল ইসলাম জানান, চালকদের সড়ক থেকে সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। তবে গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত সড়ক ছাড়তে রাজি নন বিক্ষুব্ধ চালকেরা।



