রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

‘আমার বাপেরে ১৫ জনে মিইল্লা কোপাইছে আর আমরা দুই ভাইয়ে ওরে কোপাইছি’

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: আগস্ট ১৪, ২০২৬, ০৮:২২ পিএম

‘আমার বাপেরে ১৫ জনে মিইল্লা কোপাইছে আর আমরা দুই ভাইয়ে ওরে কোপাইছি’

সংগৃহীত

ময়মনসিংহ নগরের মাসকান্দা এলাকায় দোকানে ঢুকে রাব্বি নামে এক তরুণকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত আবদুল খালেককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দাবি, পূর্ববিরোধ ও চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়।

বৃহস্পতিবার রাতে নগরের রঘুরামপুর এলাকা থেকে আবদুল খালেককে গ্রেপ্তার করা হয়। নিহত রাব্বি (২৫) মাসকান্দা এলাকার একটি কম্পিউটার প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন। তিনি নগরের ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের জেলা পরিষদ উচ্চবিদ্যালয় সড়কের মোড়লবাড়ি এলাকার মোবারক হোসেনের ছেলে।

জানা গেছে, বুধবার দুপুরে আঞ্চলিক পাসপোর্ট কার্যালয়ের সামনের এলাকায় রাব্বির ওপর কয়েকজন ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। হামলাকারীদের হাত থেকে বাঁচতে তিনি একটি দোকানের ভেতরে আশ্রয় নেন। পরে হামলাকারীরা সেখানেও ঢুকে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। ভাইকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে মুহাম্মদ রিয়াদকেও আহত করা হয়। গুরুতর অবস্থায় রাব্বিকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আবদুল খালেক হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরেই রাব্বিকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। হত্যাকাণ্ডে বড় ধরনের ধারালো অস্ত্র ব্যবহারের কথাও জানা গেছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঘটনার সঙ্গে সরাসরি চারজনের সম্পৃক্ততার প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের সঙ্গে আরও কয়েকজনের একটি দল জড়িত থাকতে পারে। অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে হত্যাকাণ্ডের পর ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযুক্তদের কয়েকটি বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেন এবং ভাঙচুর চালান। পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

গ্রেপ্তার আবদুল খালেক দাবি করেছেন, কয়েক বছর আগে তার বাবা ফজলুল হককে প্রতিপক্ষের লোকজন মারধর করে গুরুতর আহত করেছিল। সেই ঘটনার প্রতিশোধের ক্ষোভ তার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে ছিল। পাশাপাশি নিহত রাব্বির বিরুদ্ধে এলাকায় চাঁদাবাজির অভিযোগও তুলেছেন তিনি। তবে তার এসব দাবির সত্যতা এখনো নিশ্চিত হয়নি বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

ঘটনার আগের দিন দুই পক্ষের মধ্যে একটি সালিস হয়েছিল বলেও প্রাথমিক তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে। সেই সালিসের সঙ্গে চাঁদাবাজি বা অন্য কোনো বিরোধের সম্পর্ক ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন। মামলায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদের পাশাপাশি মামলার অন্য আসামিদের ধরতে অভিযান চলছে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!