রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

২৮ দিন পর মাটি খুঁড়ে নিখোঁজ যুবকের লাশ উদ্ধার

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬, ০৭:০৪ পিএম

২৮ দিন পর মাটি খুঁড়ে নিখোঁজ যুবকের লাশ উদ্ধার

ছবি: সংগৃহীত

ময়মনসিংহের ফুলপুরে নিখোঁজ হওয়ার ২৮ দিন পর মাটির নিচ থেকে রাশেদুল ইসলাম নামে ১৭ বছর বয়সী এক যুবকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই মরদেহটির সন্ধান পাওয়া যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) উপজেলার বওলা ইউনিয়নের চন্দ্রপুর গ্রামের ‘গারোর ভিটা’ নামের একটি এলাকা থেকে মাটিচাপা অবস্থায় মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। দীর্ঘদিন নিখোঁজ থাকার পর পরিবারের সদস্যদের উৎকণ্ঠার মধ্যে এ ঘটনায় নতুন করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

নিহত রাশেদুল ইসলাম উপজেলার কৃষ্ণমহেশপট্টি গ্রামের বাসিন্দা শাহজাহান মিয়ার ছেলে। জীবিকার প্রয়োজনে তিনি ইটভাটায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। গত ১০ আগস্ট সন্ধ্যায় বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর আর ফিরে আসেননি তিনি। এরপর পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি।

নিখোঁজ হওয়ার পরদিন পরিবারের কাছে মুঠোফোনে মুক্তিপণ দাবি করা হয়। বিষয়টি জানিয়ে রাশেদুলের বাবা ফুলপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। পরে পুলিশ ঘটনাটিকে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করে এবং সম্ভাব্য বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখতে থাকে।

তদন্তের একপর্যায়ে নেত্রকোনার শ্যামগঞ্জের কোকাইল গ্রামের জসিম মিয়াকে আটক করা হয়। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তার কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাশেদুলকে কোথায় রাখা হয়েছিল এবং তার মরদেহ কোথায় পুঁতে রাখা হয়েছে, সে বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়। পরে ওই তথ্য অনুসরণ করে বওলা ইউনিয়নের চন্দ্রপুর গ্রামের গারোর ভিটা এলাকায় অভিযান চালানো হয়।

অভিযানের একপর্যায়ে মাটি খুঁড়ে রাশেদুলের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে মরদেহটি প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়ার জন্য হেফাজতে নেয় পুলিশ।

এ ঘটনায় জসিম মিয়াসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার অন্য দুজন হলেন একই গ্রামের মোজ্জাম্মেল হোসেন ও রফিক মিয়া। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে হত্যাকাণ্ডের পেছনে থাকা কারণ, ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত এবং কীভাবে রাশেদুলকে হত্যা করে মরদেহ মাটিচাপা দেওয়া হয়েছিল, সেসব বিষয় জানার চেষ্টা চলছে।

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের আদালতে হাজির করা হবে। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

এদিকে দীর্ঘ ২৮ দিন পর রাশেদুলের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তার পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একজন কিশোর শ্রমিকের নিখোঁজ হওয়া, পরে পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবি এবং শেষ পর্যন্ত মাটির নিচ থেকে তার মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!