প্রকাশিত: আগস্ট ২৮, ২০২৬, ০৭:৫৪ পিএম
ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে ১৭ বছর বয়সী মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে নুরুল হক নামে ৪৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযোগের ভিত্তিতে করা মামলায় গ্রেপ্তারের পর শুক্রবার দুপুরে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে ঢাকার একটি থানায় দায়ের করা পুরোনো মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকায় ওই মামলাতেও তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার উত্তর কাকনহাটি গ্রামের বাসিন্দা নুরুল হকের বিরুদ্ধে নিজের মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৯ আগস্ট গভীর রাতে বাড়ির একটি কক্ষে ঘুমিয়ে থাকা কিশোরীর ওপর তার বাবা জোরপূর্বক যৌন নির্যাতন চালান।
ঘটনার পরপরই কিশোরী বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের জানায়নি। প্রায় তিন দিন পর সে মায়ের কাছে ঘটনাটি খুলে বলে। মেয়ের কাছ থেকে ঘটনা জানার পর পরিবারের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। পরে অভিযোগ রয়েছে, ঘটনা প্রকাশ পাওয়ার পর নুরুল হক তার স্ত্রী ও মেয়েকে ভয়ভীতি দেখানোর চেষ্টা করেন।
পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন কিশোরীর মা। বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে তিনি বাদী হয়ে ঈশ্বরগঞ্জ থানায় স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলায় মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলা দায়েরের পর অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে পুলিশ। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে ঈশ্বরগঞ্জ পৌর শহরের মুক্তিযোদ্ধা মোড়সংলগ্ন হাসপাতাল সড়ক এলাকায় অভিযান চালিয়ে নুরুল হককে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার নুরুল হক উত্তর কাকনহাটি গ্রামের মৃত হাচেন আলীর ছেলে। তাকে গ্রেপ্তারের পর প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে শুক্রবার দুপুরে আদালতে সোপর্দ করা হয়।
এদিকে নুরুল হকের বিরুদ্ধে আরও একটি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ঢাকার বাড্ডা থানায় দায়ের করা দস্যুতার মামলায় দণ্ডবিধির ৩৯৪ ধারায় তার বিরুদ্ধে ওই পরোয়ানা জারি রয়েছে। ফলে মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলার পাশাপাশি পুরোনো মামলাতেও তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রবিউল আজম জানান, কিশোরীর মা থানায় এসে স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে। তার বিরুদ্ধে বাড্ডা থানার একটি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকার বিষয়টিও পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে। দুই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, কিশোরীর করা অভিযোগের ভিত্তিতে মামলার তদন্ত কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে। ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তথ্য, অভিযোগের সত্যতা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় বিষয় তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হবে। তদন্ত শেষে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় স্থানীয়ভাবে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে পরিবারের ভেতরে একজন অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরীর বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের এমন গুরুতর অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
তবে আদালতে অভিযোগের বিচারিক নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত ব্যক্তিকে দোষী হিসেবে চূড়ান্তভাবে বিবেচনা করা যাবে না। তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই অভিযোগের সত্যতা নির্ধারিত হবে।
ভুক্তভোগী কিশোরীর পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। অপ্রাপ্তবয়স্ক যৌন নির্যাতনের শিকার ব্যক্তির পরিচয় গোপন রাখা আইন ও মানবিকতার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।



