রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

সাংবাদিক দেখলেই দরজা বন্ধ করে দেন কুমিল্লার ডিসি, পাঠার এডিসির কাছে

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: আগস্ট ১৫, ২০২৬, ০৪:১৭ পিএম

সাংবাদিক দেখলেই দরজা বন্ধ করে দেন কুমিল্লার ডিসি, পাঠার এডিসির কাছে

সংগৃহীত

কুমিল্লার জেলা প্রশাসক রোজী আক্তারের বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের সাক্ষাৎ না দেওয়া, দীর্ঘ সময় অপেক্ষায় রাখা, ফোনে সাড়া না দেওয়া এবং বিভিন্ন বিষয়ে বক্তব্য চাইলে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। জেলা প্রশাসনের প্রধান কর্মকর্তার এমন আচরণে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কুমিল্লায় কর্মরত সাংবাদিকদের একাধিক নেতা ও গণমাধ্যমকর্মী।

সাম্প্রতিক সময়ে প্রশাসনিক বিভিন্ন বিষয়ে তথ্য ও বক্তব্য নিতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে কয়েকজন সাংবাদিক একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, জেলা প্রশাসকের বক্তব্য প্রয়োজন হলেও সরাসরি তাঁর সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পাওয়া যাচ্ছে না। বরং সহকারী কর্মকর্তাদের মাধ্যমে অন্য কর্মকর্তার বক্তব্য নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

একজন সাংবাদিক জানান, মামলার প্রত্যাহার ও নিষ্পত্তি সংক্রান্ত তথ্য জানতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গেলে পরিচয়পত্র পাঠানোর পর একজন কর্মকর্তা এসে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে জেলা প্রশাসকের বক্তব্য প্রয়োজন—এ কথা জানালেও সরাসরি সাক্ষাতের সুযোগ মেলেনি।

আরেক সাংবাদিক নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে বক্তব্য নিতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গেলে কিছুক্ষণ অপেক্ষার পর তাঁকে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের বক্তব্য নেওয়ার জন্য বলা হয়। তিনি জেলা প্রশাসকের কাছ থেকেই বক্তব্য নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করলেও শেষ পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বক্তব্য নিয়েই ফিরতে হয় বলে জানান।

সাংবাদিকদের অভিযোগ, জেলা প্রশাসকের কাছে যাওয়ার উদ্দেশ্য কোনো ব্যক্তিগত সুবিধা নেওয়া নয়; বরং জেলার মানুষের সমস্যা, সরকারি কার্যক্রম ও নাগরিক সেবার বিষয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য সংগ্রহ করা। জেলা প্রশাসনের প্রধান হিসেবে এসব বিষয়ে তাঁর বক্তব্য অনেক সময় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

কুমিল্লার সাংবাদিক নেতাদের কেউ কেউ বলেন, জেলা প্রশাসক কোনো বিষয়ে অবগত না থাকলে সেটিও সরাসরি জানাতে পারেন। কিন্তু সাংবাদিকদের সঙ্গে সাক্ষাৎ না করা বা প্রতিনিয়ত অন্য কর্মকর্তার কাছে পাঠিয়ে দেওয়া প্রশাসন ও গণমাধ্যমের মধ্যে দূরত্ব তৈরি করতে পারে।

এ ছাড়া গত ৬ আগস্ট বিদ্যুৎ ও গ্যাসসহ বিভিন্ন নাগরিক সমস্যা নিয়ে কয়েকজন ব্যক্তি জেলা প্রশাসকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলে তাঁদের সঙ্গে অসহিষ্ণু আচরণ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

সাংবাদিক নেতাদের ভাষ্য, জেলা প্রশাসক জেলার সর্বোচ্চ প্রশাসনিক কর্মকর্তা। ফলে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তাঁর বক্তব্যের আলাদা গুরুত্ব রয়েছে। কোনো বিষয়ে বক্তব্য দেওয়ার প্রয়োজন হলে সাংবাদিকদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ ও তথ্য বিনিময়ের পরিবেশ থাকা জরুরি।

জেলা প্রশাসকের এমন আচরণের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সাড়া পাওয়া যায়নি। মুঠোফোনে কলের পাশাপাশি বার্তা পাঠানো হলেও কোনো জবাব পাওয়া যায়নি বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

সাংবাদিকদের দাবি, প্রশাসন ও গণমাধ্যম পরস্পরের প্রতিপক্ষ নয়। জনগণের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দিতে দুই পক্ষের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ ও পারস্পরিক সহযোগিতা প্রয়োজন। তাই কুমিল্লার জেলা প্রশাসক সাংবাদিকদের সঙ্গে দূরত্ব কমিয়ে প্রয়োজনীয় বিষয়ে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ তৈরি করবেন—এমন প্রত্যাশা স্থানীয় সাংবাদিকদের।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!