প্রকাশিত: আগস্ট ১৫, ২০২৬, ০৫:১৬ পিএম
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারীতে একটি জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ ইয়ার্ডে দুর্ঘটনার পর জাহাজটির ভেতরে স্বাভাবিক মাত্রার তুলনায় অতিরিক্ত হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাসের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। শিল্প সচিব আব্দুন নাসের খান জানিয়েছেন, এই বিষাক্ত গ্যাসের কারণেই দুর্ঘটনায় ৯ শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
শনিবার ১৫ আগস্ট সকালে দুর্ঘটনাকবলিত জাহাজ ও ইয়ার্ড পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান শিল্প সচিব। তিনি বলেন, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং কারও দায়িত্বে অবহেলা বা গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে পৃথক তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
শিল্প মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে একজন অতিরিক্ত সচিবকে প্রধান করে ১১ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৯ সদস্যের এবং বাংলাদেশ জাহাজ ভাঙা ও পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ বোর্ডের পক্ষ থেকে পাঁচ সদস্যের আরও দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
তদন্ত কমিটিগুলোকে দুর্ঘটনার আগে ও পরে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করে দ্রুত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। তদন্তে কারও অবহেলা, দায়িত্বে গাফিলতি বা নিরাপত্তাবিধি লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন শিল্প সচিব।
তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনাকবলিত জাহাজের ভেতরে জমে থাকা বিষাক্ত গ্যাস বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় নিরাপদ উপায়ে অপসারণ করা হবে। ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ ইয়ার্ডগুলোতে নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।
বিস্ফোরক অধিদপ্তরের পরীক্ষার বরাত দিয়ে শিল্প সচিব বলেন, জাহাজটিতে স্বাভাবিক মাত্রার তুলনায় হাইড্রোজেন সালফাইডের পরিমাণ বেশি পাওয়া গেছে। এই গ্যাস অত্যন্ত বিষাক্ত হওয়ায় দুর্ঘটনার পর উদ্ধার ও পরিদর্শন কার্যক্রমেও বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন হয়েছে।
এদিকে নিহত শ্রমিকদের পরিবারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত থানায় কোনো অভিযোগ করা হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ। শনিবার সকালে নিহত কয়েকজন শ্রমিকের পরিবারের সদস্যদের থানায় ডেকে প্রয়োজনীয় তথ্য নেওয়া হয়েছে।
দুর্ঘটনায় নিহতদের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ, নিরাপত্তাব্যবস্থার ঘাটতি এবং সম্ভাব্য দায়িত্বে অবহেলার বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।



