প্রকাশিত: আগস্ট ১৭, ২০২৬, ০১:২০ পিএম
ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাকে নিবন্ধনের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে নিবন্ধন পেতে হলে এসব যানবাহনের ব্যাটারি সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে চার্জ করার শর্ত পূরণ করতে হবে। সৌরবিদ্যুৎ ছাড়া অন্য কোনো মাধ্যমে ব্যাটারি চার্জ করা হলে সংশ্লিষ্ট অটোরিকশাকে নিবন্ধন দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
সোমবার সচিবালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব তথ্য জানান। প্রতিমন্ত্রী বলেন, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাগুলোকে একটি নির্দিষ্ট ব্যবস্থাপনার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ব্যবহারে উৎসাহিত করতেই নিবন্ধনের ক্ষেত্রে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের শর্ত রাখা হচ্ছে।
রাজধানীতে অটোরিকশা চলাচল নিয়ন্ত্রণে নতুন ব্যবস্থার কথাও জানিয়েছেন তিনি। ঢাকাকে আটটি অঞ্চলে ভাগ করে প্রতিটি অঞ্চলের জন্য আলাদা রঙের বৈদ্যুতিক অটোরিকশা নির্ধারণ করা হবে। নির্দিষ্ট অঞ্চলের যানবাহন অন্য অঞ্চলে গিয়ে চলাচল করতে পারবে না। কেউ নির্ধারিত এলাকার বাইরে গেলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে বিধিমালা প্রণয়ন সম্পন্ন হওয়ার পর কার্যক্রম শুরু হবে বলে জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।
তিনি আরও জানান, শুধু রাজধানী নয়, দেশের ১৩টি সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট এলাকায়ও এ ব্যবস্থা কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চলাচল আরও শৃঙ্খলিত করার পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব শক্তির ব্যবহার বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।
এদিকে চলতি অর্থবছরের মধ্যেই স্থানীয় সরকারের পাঁচ স্তরের নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন মীর শাহে আলম। সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ এবং ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন একই অর্থবছরের মধ্যে সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, এসব নির্বাচন আয়োজনের জন্য চলতি অর্থবছরের বাজেটে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে প্রাথমিক প্রস্তুতি শুরু করেছে। পাঁচ স্তরের নির্বাচন সম্পন্ন করতে আনুমানিক ছয় হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হতে পারে বলে প্রাথমিক হিসাব করা হয়েছে।
ফলে একদিকে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাকে নিবন্ধনের আওতায় এনে চলাচলে শৃঙ্খলা ফেরানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, অন্যদিকে একই অর্থবছরের মধ্যে স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন স্তরের নির্বাচন সম্পন্ন করার প্রস্তুতিও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।



