প্রকাশিত: আগস্ট ১৮, ২০২৬, ১১:৩৫ এএম
বাবার মৃত্যুর খবর পেয়ে কারাগার থেকে সাময়িক মুক্তি নিয়ে জানাজায় অংশ নিয়েছেন চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যকরী কমিটির সদস্য মোহাম্মদ শাহাদাত নবী। তবে জানাজার সময়ও তার হাতে ছিল হাতকড়া। পুলিশি পাহারায় বাবার শেষ বিদায়ে অংশ নেওয়ার পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তাকে আবার কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।
সোমবার (১৭ আগস্ট) দুপুরে চন্দনাইশ পৌরসভার একটি মসজিদে শাহাদাত নবীর বাবা নুরুনবী সওদাগরের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। বাবার শেষ বিদায়ে অংশ নেওয়ার পর শাহাদাত নবীকে আবার পুলিশি পাহারায় কারাগারে পাঠানো হয়।
শাহাদাত নবী বর্তমানে গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে ঢাকার ধানমন্ডি থানায় তিনটি মামলা রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। তিনি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপকমিটির ত্রাণবিষয়ক সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন বলে জানা গেছে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, শাহাদাত নবীর বাবা নুরুনবী সওদাগর ৮৮ বছর বয়সে রোববার ভোরে চন্দনাইশের একটি হাসপাতালে মারা যান। দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি।
বাবার মৃত্যুসংবাদ পাওয়ার পর জানাজায় অংশ নেওয়ার জন্য কারাগার কর্তৃপক্ষের কাছে প্যারোলে মুক্তির আবেদন করেন শাহাদাত নবী। পরে তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গাজীপুর জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নির্দিষ্ট সময়ের জন্য তাকে সাময়িক মুক্তির অনুমতি দেন। সোমবার ভোর ৪টা থেকে বেলা সাড়ে ৩টা পর্যন্ত মোট সাড়ে ১১ ঘণ্টার জন্য এই অনুমতি দেওয়া হয়।
পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দুপুরের দিকে পুলিশি পাহারায় তাকে কাশিমপুর কারাগার থেকে চন্দনাইশে নিয়ে আসা হয়। এরপর মসজিদে অনুষ্ঠিত বাবার জানাজায় তিনি অংশ নেন। জানাজার সময় তার হাতে হাতকড়া থাকায় বিষয়টি উপস্থিত মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
জানাজা শেষে বাবার দাফন সম্পন্ন হওয়ার পর নির্ধারিত সময়ের আগেই তাকে আবার কারাগারে নেওয়া হয়। পুলিশ জানিয়েছে, দুপুরের পর তাকে চন্দনাইশ থেকে পুলিশি পাহারায় কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
চন্দনাইশ থানার সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তা জানান, বাবার মৃত্যুর পর শাহাদাত নবীর আবেদনের ভিত্তিতে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমোদন অনুযায়ী তাকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল। জানাজা শেষে অনুমোদিত সময়সীমার মধ্যেই তাকে পুনরায় কারাগারে পাঠানো হয়।
পরিবারের দাবি, গত বছরের ১২ আগস্ট ঢাকার পল্টন এলাকা থেকে শাহাদাত নবীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর কারণে তিনি কারাগারে রয়েছেন। বাবার শেষ বিদায়ে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেলেও জানাজা শেষে তাকে আবারও ফিরতে হয়েছে বন্দিজীবনে।



