প্রকাশিত: আগস্ট ২৩, ২০২৬, ০৬:০৮ পিএম
কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে গৃহবধূ মরিয়ম বেগম হত্যা মামলায় তার শ্বশুর, শাশুড়ি ও দেবরকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেক আসামিকে ২০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড করা হয়েছে। জরিমানার অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে তাদের আরও ছয় মাস করে কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। তবে মামলার অপর আসামি এবং নিহতের স্বামী আবদুল মতিনকে অভিযোগ থেকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
রোববার কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ চতুর্থ আদালতের বিচারক মো. শামছুল আলম এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামিই আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন নিহত মরিয়ম বেগমের শ্বশুর আবদুল মমিন, শাশুড়ি ফাতেমা বেগম এবং দেবর মো. নিজাম।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০০৫ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর রাতে কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার ছুপুয়া গ্রামে পারিবারিক বিরোধের জেরে মরিয়ম বেগমকে গলাটিপে হত্যা করা হয়। ঘটনার পরদিন নিহতের বাবা সোলেমান বাদী হয়ে নাঙ্গলকোট থানায় চারজনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন।
মামলাটি দীর্ঘ সময় ধরে বিচারাধীন থাকার পর আদালতে সাক্ষ্যগ্রহণ ও অন্যান্য আইনি কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। রাষ্ট্রপক্ষ মোট ১২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য উপস্থাপন করে। সাক্ষীদের বক্তব্য ও মামলার অন্যান্য প্রমাণ পর্যালোচনা করে আদালত তিন আসামির বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে সিদ্ধান্ত দেন।
এরপর বিচারক আবদুল মমিন, ফাতেমা বেগম ও মো. নিজামকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন। অর্থদণ্ড দিতে ব্যর্থ হলে অতিরিক্ত ছয় মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়।
অন্যদিকে, মামলার অপর আসামি মরিয়মের স্বামী আবদুল মতিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ যথেষ্টভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় আদালত তাকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন।
রায় ঘোষণার পর নিহতের স্বজন ও বাদীপক্ষের আইনজীবী সন্তোষ প্রকাশ করেন। তাদের ভাষ্য, দীর্ঘ দুই দশকের বিচারিক অপেক্ষার পর আদালতের রায়ে তারা ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে বলে মনে করছেন। একই সঙ্গে দণ্ডপ্রাপ্তদের সাজা দ্রুত কার্যকরের দাবি জানান তারা।
মরিয়ম হত্যার এই মামলা দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ার পর নিষ্পত্তি হওয়ায় স্থানীয়ভাবে বিষয়টি নিয়ে আবারও আলোচনা শুরু হয়েছে। আদালতের রায়ে একদিকে তিন আসামির সাজা হয়েছে, অন্যদিকে নিহতের স্বামীকে অভিযোগ থেকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।



