প্রকাশিত: আগস্ট ২৩, ২০২৬, ০৯:১৮ পিএম
চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। মাদক সেবন, বিক্রি ও সরবরাহের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের সামাজিকভাবে বর্জনের পাশাপাশি তাদের মৃত্যুর পর দাফনসহ বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডেও অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের মধ্যম সোনাপাহাড় দরবার টিলা এলাকার বাসিন্দারা।
শুক্রবার জুমার নামাজের পর স্থানীয় বাইতুশ শরফ জামে মসজিদে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় মুসল্লি, মসজিদ পরিচালনা কমিটির সদস্য ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা এ সিদ্ধান্ত নেন। সভায় মাদকের বিস্তার ঠেকাতে পরিবার ও সমাজের সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।
স্থানীয়দের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মাদকের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের সামাজিকভাবে একঘরে করার পাশাপাশি তাদের মৃত্যুর পর দাফন কার্যক্রমে অংশ না নেওয়া, মসজিদের খাটিয়া ব্যবহার না করা এবং তাদের পরিবারের সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশ না নেওয়ার মতো পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বাড়িতে ইমামদের খাবার গ্রহণ না করার সিদ্ধান্তের কথাও জানানো হয়েছে।
স্থানীয় মাদক নির্মূল কমিটির সভাপতি আব্দুর আল রহিম বলেন, মাদকের ভয়াবহতা থেকে তরুণ সমাজকে রক্ষা করতেই এলাকাবাসী ঐক্যবদ্ধ হয়ে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কাউকে অপমান বা ব্যক্তিগতভাবে হেয় করা তাদের উদ্দেশ্য নয়; বরং সামাজিকভাবে মাদকের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান তৈরি করাই মূল লক্ষ্য।
তিনি আরও বলেন, শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানের মাধ্যমে মাদক পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। পরিবার, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় সমাজ একযোগে সচেতন হলে তরুণদের মাদকের ছোবল থেকে দূরে রাখা সম্ভব।
সভায় মাদক ব্যবসা ও সেবনের সঙ্গে জড়িত কাউকে সামাজিক বা পারিবারিকভাবে প্রশ্রয় না দেওয়ার বিষয়ে সবাই একমত হন। একই সঙ্গে এলাকায় মাদকসংক্রান্ত কোনো তথ্য পাওয়া গেলে তা দায়িত্বশীল ব্যক্তি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোর আহ্বান জানানো হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা মনে করছেন, সামাজিকভাবে সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে উঠলে এলাকায় মাদকের বিস্তার কমানো এবং তরুণদের এ ভয়াবহ আসক্তি থেকে রক্ষা করা সহজ হবে।



