প্রকাশিত: আগস্ট ২৪, ২০২৬, ১২:২২ পিএম
কিশোরগঞ্জের ভৈরব পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর ও পৌর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. আল আমিন সৈকতকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। রোববার (২৩ আগস্ট) রাতে ভৈরব বাজারের টিনপট্টি এলাকায় একদল দুর্বৃত্ত তার ওপর হামলা চালায়। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত আল আমিন সৈকতের বয়স ৪০ বছর। তিনি ভৈরবপুর উত্তরপাড়ার আড়াই বেপারি বাড়ির ব্যবসায়ী জসিম মিয়ার ছেলে। স্থানীয় রাজনীতির পাশাপাশি ব্যবসায়িক অঙ্গনেও তার পরিচিতি ছিল। তিনি ভৈরব পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ছিলেন। একই সঙ্গে পৌর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক এবং ভৈরব চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার রাত পৌনে ১২টার দিকে ভৈরব বাজারের টিনপট্টি এলাকায় অবস্থান করছিলেন আল আমিন সৈকত। এ সময় একদল দুর্বৃত্ত হঠাৎ তার ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। এতে শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয় তার।
হামলার পর আশপাশের লোকজন তাকে উদ্ধার করে দ্রুত স্থানীয় আলশেফা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসা দেওয়ার পরও তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় নেওয়া হয়।
আশঙ্কাজনক অবস্থায় আল আমিন সৈকতকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। বর্তমানে তার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ভৈরব এলাকায় শোক ও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের মধ্যে হত্যাকাণ্ডের কারণ এবং হামলাকারীদের পরিচয় নিয়ে নানা আলোচনা চলছে। তবে ঠিক কী কারণে এবং কারা এই হামলা চালিয়েছে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মাহবুব রহমান জানান, দুর্বৃত্তদের হামলায় গুরুতর আহত আল আমিন সৈকতকে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ অভিযান শুরু করেছে।
পুলিশ বলছে, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে ঘটনাস্থলের তথ্যসহ বিভিন্ন বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি হামলাকারীরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা ঘটিয়েছে কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
এদিকে একজন সাবেক জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকে প্রকাশ্যে এভাবে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। দ্রুত হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করে জড়িতদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।



