প্রকাশিত: আগস্ট ২৭, ২০২৬, ০৭:৫৭ পিএম
গাজীপুরের করমতলা এলাকায় বকেয়া বেতন পরিশোধের দাবিতে এপিএস-নিজ কম্পোজিট লিমিটেডের শ্রমিকরা কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ করছেন। বৃহস্পতিবার ২৭ আগস্ট সকাল থেকে কারখানার বাইরে অবস্থান নিয়ে তারা বিক্ষোভ শুরু করেন। বকেয়া বেতন কত মাসের, তা নিয়ে শ্রমিক ও কারখানা কর্তৃপক্ষের বক্তব্যে ভিন্নতা দেখা দেওয়ায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
শ্রমিকদের দাবি, তাদের তিন মাসের বেতন বকেয়া রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বেতন না পাওয়ায় পরিবার নিয়ে আর্থিক সংকটে পড়েছেন তারা। বকেয়া পুরোপুরি পরিশোধ না হওয়া পর্যন্ত কাজে ফিরবেন না এবং বাড়িতেও যাবেন না বলে জানিয়েছেন আন্দোলনরত শ্রমিকরা।
অন্যদিকে কারখানার প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোয়াজ্জেম হোসেনের দাবি, শ্রমিকদের মাত্র এক মাসের বেতন পাওনা রয়েছে। ফলে প্রকৃত বকেয়া কত মাসের, তা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মতবিরোধ তৈরি হয়েছে।
শ্রমিকদের ভাষ্য অনুযায়ী, কর্মবিরতির একপর্যায়ে কারখানার বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ হয়ে গেলে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের উত্তেজনা দেখা দেয়। পরে পরিস্থিতি সংঘর্ষে গড়ায়। এতে অন্তত ২০ জন শ্রমিক আহত হয়েছেন বলে শ্রমিকদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। আহত কয়েকজনকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
তবে কারখানা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে সংঘর্ষের বিষয়ে ভিন্ন বক্তব্য পাওয়া গেছে। প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোয়াজ্জেম হোসেন দাবি করেন, ঘটনার সময় প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী পরিচালক শাকিল আহমেদ গুরুতর আহত হয়েছেন এবং তার একটি হাত ভেঙে গেছে। তবে শ্রমিকরা এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাদের দাবি, তারা কোনো প্রশাসনিক কর্মকর্তার ওপর হামলা করেননি; বরং কর্মকর্তাদের সঙ্গে উত্তেজনার সময় সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
কারখানার কয়েকজন শ্রমিক জানান, নিয়মিত কাজ করেও সময়মতো বেতন না পাওয়ায় তাদের সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। দ্রুত বকেয়া বেতন পরিশোধ না করলে তাদের দুর্ভোগ আরও বাড়বে। তাই কারখানার হিসাবপত্র যাচাই করে প্রকৃত পাওনা নির্ধারণ এবং দ্রুত তা পরিশোধের দাবি জানিয়েছেন তারা।
ঘটনার খবর পেয়ে শিল্প পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে। শিল্প পুলিশের উপপরিদর্শক সাইফুল জানান, বিষয়টি তারা জানতে পেরেছেন এবং ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে পরিস্থিতি মোটামুটি শান্ত রয়েছে বলেও জানান তিনি।
এদিকে শ্রমিকরা কারখানার বাইরে অবস্থান নিয়ে কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছেন। বকেয়া বেতনের পরিমাণ নিয়ে দুই পক্ষের ভিন্ন বক্তব্যের কারণে বিষয়টি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। শ্রমিকদের দাবি, পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের পরিবর্তে নিরপেক্ষভাবে হিসাব যাচাই করে প্রকৃত পাওনা নির্ধারণ করা হোক এবং শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা দ্রুত বুঝিয়ে দেওয়া হোক।



