প্রকাশিত: আগস্ট ২৯, ২০২৬, ০৯:০৪ এএম
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জ থেকে কুমিল্লার একটি দীর্ঘ অংশে ভয়াবহ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার দিনভর থেমে থেমে যানবাহন চলাচল করলেও বিকেলের পর পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যায়। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যানজটের বিস্তৃতি বাড়তে বাড়তে নারায়ণগঞ্জের আষাঢ়িয়ার চর থেকে দাউদকান্দি হয়ে কুমিল্লার ইলিয়টগঞ্জ পর্যন্ত প্রায় ৪০ কিলোমিটার এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।
শনিবার সকালেও মহাসড়কের ওই অংশে যানবাহন স্বাভাবিক গতিতে চলতে পারেনি। কোথাও ধীরগতিতে গাড়ি এগোলেও অনেক জায়গায় দীর্ঘ সময় ধরে যানবাহন প্রায় স্থির হয়ে ছিল। এতে দূরপাল্লার বাসের যাত্রী, চালক, সহকারী এবং পণ্যবাহী যানবাহনের শ্রমিকদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা সড়কে আটকে থাকতে হয়।
শুক্রবার রাতে নারায়ণগঞ্জের আষাঢ়িয়ার চর সেতু এলাকা থেকে দাউদকান্দির দিকে ঢাকামুখী লেনে যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। সময় যত গড়িয়েছে, আটকে থাকা গাড়ির সংখ্যা তত বেড়েছে। একপর্যায়ে যানজট সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে এবং এর প্রভাব মহাসড়কের বিস্তীর্ণ অংশে ছড়িয়ে যায়।
যানজটে আটকে থাকা এক বাসযাত্রী জানান, তিনি সন্ধ্যায় কুমিল্লা থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন। কিন্তু রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত দাউদকান্দিতে পৌঁছাতে পারেননি। দীর্ঘ সময় ধরে একই জায়গায় আটকে থাকায় বাসের যাত্রীদের মধ্যে চরম অস্বস্তি তৈরি হয়।
আরেক যাত্রী জানান, রাত থেকে তাঁরা সড়কে আটকে আছেন। কখন যান চলাচল স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে কোনো ধারণা পাওয়া যাচ্ছে না। দীর্ঘ সময় বাসে আটকে থাকায় নারী, শিশু ও বয়স্ক যাত্রীরা সবচেয়ে বেশি কষ্টে পড়েছেন বলেও জানান তিনি।
দূরপাল্লার বাসের একজন চালক জানান, এই মহাসড়কে এমনিতেই যানবাহনের চাপ বেশি থাকে। এর মধ্যে আষাঢ়িয়ার চর এলাকায় একটি লেন বন্ধ থাকায় উভয় দিকের বিপুলসংখ্যক যানবাহনকে সীমিত অংশ দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। এতে স্বাভাবিক গতিতে গাড়ি চলতে না পারায় দ্রুত দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়েছে।
সড়ক ও জনপথ বিভাগের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সাম্প্রতিক কয়েক দিনের অতিবৃষ্টির কারণে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে ছোট-বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। এসব গর্তের কারণে যানবাহনের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বেড়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় নারায়ণগঞ্জের আষাঢ়িয়ার চর এলাকায় মহাসড়কের ঢাকামুখী অংশে জরুরি ভিত্তিতে মেরামত ও সংস্কারকাজ শুরু করা হয়েছে।
সংস্কারকাজের কারণে ওই এলাকার দুটি লেনের একটি লেনে যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। ফলে উভয়মুখী যানবাহনকে পর্যায়ক্রমে সীমিত একটি লেন দিয়ে পার হতে হচ্ছে। এতে যানবাহনের স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
কাঁচপুর মহাসড়ক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সফিউল ইসলাম জানান, আষাঢ়িয়ার চর এলাকায় সড়ক বিভাগের জরুরি সংস্কারকাজ চলায় একটি লেন দিয়ে পর্যায়ক্রমে যানবাহন পার করা হচ্ছে। এ কারণেই মূলত ওই এলাকায় যানবাহনের চাপ বেড়ে গিয়ে দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়েছে।
তিনি জানান, যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং যানজট নিয়ন্ত্রণে মহাসড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে মহাসড়ক পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে। যানবাহনের চাপ কমানো, আটকে থাকা গাড়িগুলোকে পর্যায়ক্রমে সামনে এগিয়ে দেওয়া এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সংস্কারকাজ দ্রুত শেষ করা গেলে মহাসড়কের ওই অংশে যান চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সংস্কারকাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত ওই এলাকায় যানবাহনের চাপ ও ধীরগতির আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।
এদিকে দীর্ঘ যানজটের কারণে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন দূরপাল্লার যাত্রীরা। অনেককে নির্ধারিত সময়ের তুলনায় কয়েক ঘণ্টা বেশি সময় সড়কে কাটাতে হয়েছে। পণ্যবাহী যানবাহন আটকে থাকায় পণ্য পরিবহনেও বিঘ্ন ঘটেছে। দীর্ঘ সময় যানজটে আটকে থাকার কারণে চালক ও শ্রমিকদের মধ্যেও দেখা দিয়েছে চরম দুর্ভোগ।
মহাসড়কের এমন পরিস্থিতিতে যাত্রীদের সময় হাতে নিয়ে যাত্রা করার এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সংস্কারকাজ দ্রুত শেষ করে মহাসড়কের স্বাভাবিক যান চলাচল নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।



