প্রকাশিত: আগস্ট ২৯, ২০২৬, ০১:১৪ পিএম
রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজার সামনে ছিনতাইয়ের সময় রিকশা থেকে পড়ে এক প্রধান শিক্ষিকার মৃত্যু হয়েছে। শনিবার সকালে এ ঘটনা ঘটে। নিহত মোসা. রনজিনা পারভীন বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ি সরকারি বালিকা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছিলেন। চোখের চিকিৎসার জন্য তিনি ঢাকায় এসেছিলেন।
হাসপাতাল ও স্বজনদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, রনজিনা পারভীন শুক্রবার রাতে বগুড়া থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন। তাঁর রাজধানীর একটি চক্ষু হাসপাতালে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার কথা ছিল। শনিবার ভোরে গাবতলী বাস টার্মিনালে পৌঁছানোর পর তিনি রিকশায় করে চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার জন্য রওনা দেন।
সকাল সাড়ে ৬টার দিকে রিকশাটি জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজার সামনে পৌঁছালে পেছন দিক থেকে একটি মোটরসাইকেল এসে তাঁর ব্যাগ ধরে টান দেয় বলে জানা গেছে। আকস্মিক টানে ভারসাম্য হারিয়ে রিকশা থেকে সড়কে পড়ে যান তিনি। এতে তাঁর মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে এবং মাথা ফেটে যায়।
ঘটনার পর আশপাশের লোকজন দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর বিষয়টি নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তদন্ত শুরু করেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টার সময় রনজিনা রিকশা থেকে পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হন। তবে ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত এবং ঠিক কীভাবে পুরো ঘটনাটি ঘটেছে, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ।
তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার ইবনে মিজান জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে পুলিশ কাজ করছে। একই সঙ্গে যে মোটরসাইকেলটি ব্যবহার করা হয়েছে, সেটির পরিচয় শনাক্তের চেষ্টাও চলছে। তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এদিকে রনজিনা পারভীনের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ায় তাঁর কর্মস্থল ও নিজ এলাকায় শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিন শিক্ষকতা করার পাশাপাশি তিনি একটি সরকারি বালিকা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। চিকিৎসার উদ্দেশ্যে রাজধানীতে এসে এমন মর্মান্তিক ঘটনার শিকার হওয়ায় তাঁর পরিচিতজনদের মধ্যে শোক নেমে এসেছে।
নিহতের পরিবারের সদস্যরা ঘটনাটি নিয়ে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তাঁরা বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়েছেন। পরিবারের এই অবস্থানকে সম্মান জানিয়ে তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের অপ্রয়োজনীয় কোনো তথ্য প্রকাশ না করাই সমীচীন।
রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ত একটি এলাকায় দিনের শুরুতেই এমন ঘটনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে চলন্ত যানবাহন থেকে যাত্রীদের ব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়ার মতো ঘটনায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি কতটা ভয়াবহ হতে পারে, রনজিনা পারভীনের মৃত্যু তারই একটি করুণ উদাহরণ হয়ে উঠেছে।
পুলিশ এখন ঘটনাস্থলের আশপাশের তথ্য সংগ্রহ, মোটরসাইকেল ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্ত এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা করছে। তদন্ত শেষ হলে ছিনতাইয়ের ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত এবং কীভাবে এই ঘটনা ঘটেছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।



