প্রকাশিত: আগস্ট ২৯, ২০২৬, ০৩:৪৬ পিএম
বরগুনায় নারিকেল গাছ থেকে ডাব চুরি করতে গিয়ে ভিমরুলের আক্রমণের শিকার হয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন দবির নামের এক যুবক। গাছ থেকে ডাব কাটার সময় আচমকা ভিমরুলের ঝাঁক তাকে আক্রমণ করলে প্রাণ বাঁচাতে নিচে লাফিয়ে পড়েন তিনি। এতে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত পান। পরে অসহায় অবস্থায় বাড়ির মালিককেই ডাকাডাকি করে উদ্ধারের জন্য সাহায্য চান ওই যুবক।
শনিবার (২৯ আগস্ট) সকালে বরগুনা সদর উপজেলার দক্ষিণ বরগুনা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে বেশ আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে বেলাল হোসেনের বাড়ির একটি নারিকেল গাছে ওঠেন দবির। উদ্দেশ্য ছিল গাছ থেকে ডাব পেড়ে নিয়ে যাওয়া। গাছে ওঠার পর তিনি করাত দিয়ে একের পর এক ডাব কাটতে শুরু করেন। কয়েকটি ডাব কেটে নিচে ফেলেও দেন তিনি।
তবে ডাব কাটার সময় অসাবধানতাবশত গাছের একটি অংশে থাকা ভিমরুলের বাসায় আঘাত লাগে। এতে বাসা থেকে বেরিয়ে এসে ভিমরুলের দল দবিরকে ঘিরে ধরে। হঠাৎ আক্রমণের মুখে তিনি গাছের ওপর অবস্থান ধরে রাখতে পারেননি। একপর্যায়ে গাছ থেকে নিচে পড়ে গুরুতর আহত হন।
ভিমরুলের কামড় ও গাছ থেকে পড়ে যাওয়ার পর তিনি আর নিজে সেখান থেকে সরে যেতে পারেননি। বিপদের মধ্যে পড়ে বাড়ির লোকজনের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য চিৎকার করে সাহায্য চাইতে থাকেন। আশ্চর্যের বিষয়, যাঁর বাড়িতে ডাব চুরি করতে গিয়েছিলেন, শেষ পর্যন্ত সেই বাড়ির মালিকের কাছেই উদ্ধারের জন্য আকুতি জানান তিনি।
বাড়ির মালিক বেলাল হোসেন জানান, সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর বাইরে থেকে ডাকাডাকির শব্দ শুনতে পান। পরে বের হয়ে বাড়ির পাশে গিয়ে দেখেন, কয়েকটি কাটা ডাবের সঙ্গে এক যুবক গাছের নিচে পড়ে আছেন। তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন ছিল এবং তিনি সাহায্যের জন্য অনুরোধ করছিলেন। বিষয়টি বুঝতে পেরে স্থানীয়দের সহায়তায় দ্রুত পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দবিরকে উদ্ধার করে। পরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় চিকিৎসার জন্য বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।
বরগুনা সদর থানার উপপরিদর্শক শামীম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে গাছের নিচ থেকে আহত অবস্থায় ওই যুবককে উদ্ধার করে। তার শরীরে ভিমরুলের কামড় এবং পড়ে যাওয়ার কারণে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। গুরুতর আহত হওয়ায় তাকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনাটি এলাকায় কৌতূহলের সৃষ্টি করেছে। ডাব চুরি করতে গিয়ে ভিমরুলের আক্রমণের শিকার হওয়ার পর শেষ পর্যন্ত সেই বাড়ির মালিকের কাছেই সাহায্য চাইতে হওয়ায় ঘটনাটি স্থানীয়দের মধ্যে হাস্যরসেরও জন্ম দিয়েছে।



