প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬, ০৭:৩৮ পিএম
বরগুনার পাথরঘাটায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ হরিণের মাংস, চামড়া ও একটি মাথা উদ্ধার করেছে কোস্টগার্ড। এ ঘটনায় মো. ইব্রাহিম নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাকে এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়। অর্থদণ্ড পরিশোধে ব্যর্থ হলে তাকে আরও তিন মাস কারাভোগ করতে হবে।
বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতের এই অভিযানে পাথরঘাটা উপজেলার দক্ষিণ চরদোয়ানী এলাকার কালিয়ার খালসংলগ্ন একটি কাঠের নৌকায় তল্লাশি চালানো হয়। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে নৌকাটিতে বিপুল পরিমাণ হরিণের মাংস পাওয়া যায়। পরে মাংসের পাশাপাশি তিনটি হরিণের চামড়া ও একটি মাথা উদ্ধার করা হয়। এ সময় নৌকায় থাকা ইব্রাহিমকেও আটক করা হয়।
উদ্ধার করা মাংসের পরিমাণ ৩৫০ কেজি। এর আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় চার লাখ বিশ হাজার টাকা বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। চামড়া ও হরিণের মাথারও আলাদা মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বন্যপ্রাণী শিকার ও মাংস পাচারের সঙ্গে জড়িত একটি চক্রের বিষয়ে তথ্য পাওয়ার পরই অভিযানটি পরিচালনা করা হয়।
অভিযানের পর আটক ব্যক্তিকে এবং উদ্ধার করা মাংস, চামড়া ও হরিণের মাথা বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়। একই সঙ্গে মাংস পরিবহনে ব্যবহৃত কাঠের নৌকাটিও জব্দ করা হয়েছে। পরে বন বিভাগের পক্ষ থেকে বিষয়টি আদালতকে জানানো হয়।
আদালত ঘটনাটি আমলে নিয়ে তাৎক্ষণিক বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করেন। শুনানি শেষে ইব্রাহিমকে এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পাশাপাশি ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অর্থদণ্ড অনাদায়ে অতিরিক্ত তিন মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী জব্দ করা হরিণের মাংস মাটিচাপা দিয়ে ধ্বংস করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া চামড়াগুলো বন বিভাগের হেফাজতে সংরক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, উপকূলীয় এলাকায় বন্যপ্রাণী শিকার ও পাচার ঠেকাতে নিয়মিত নজরদারি চালানো হচ্ছে। সুন্দরবন ও আশপাশের এলাকায় হরিণসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণী শিকার করে মাংস পাচারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, হরিণ বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ বন্যপ্রাণীর একটি। অবৈধভাবে শিকার ও পাচারের কারণে এসব প্রাণীর অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়তে পারে। তাই বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি শিকার ও পাচারের সঙ্গে জড়িত চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
এই ঘটনায় আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক বিচার ও সাজা দেওয়ার পাশাপাশি উদ্ধার করা মাংস ধ্বংস এবং চামড়া সংরক্ষণের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এতে অবৈধ বন্যপ্রাণী শিকার ও পাচারের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কঠোর অবস্থানের বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়েছে।



