রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

শুল্ক ফাঁকি দিতে পার্টস খুলে ৩ বিলাসবহুল গাড়ি আমদানির চেষ্টা, বন্দরে জব্দ

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬, ০৯:২৬ পিএম

শুল্ক ফাঁকি দিতে পার্টস খুলে ৩ বিলাসবহুল গাড়ি আমদানির চেষ্টা, বন্দরে জব্দ

ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামের পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালে ‘ব্যবহৃত খুচরা যন্ত্রাংশ’ হিসেবে আমদানি করা একটি চালান তল্লাশি করে তিনটি বিলাসবহুল গাড়ির খণ্ডিত অংশ জব্দ করেছে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। প্রাথমিকভাবে এসব পণ্যের আনুমানিক বাজারমূল্য ৯ কোটি ৫০ লাখ থেকে ১২ কোটি টাকা বলে ধারণা করা হচ্ছে। শুল্ক ফাঁকি দেওয়ার উদ্দেশ্যে সম্পূর্ণ গাড়ি খুলে আলাদা যন্ত্রাংশ হিসেবে আমদানি করা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জাপান থেকে একটি কনটেইনারে করে চালানটি চট্টগ্রামের পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালে আনা হয়। আমদানি নথিতে পণ্যগুলোকে ব্যবহৃত খুচরা যন্ত্রাংশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। তবে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে শুল্ক গোয়েন্দা কর্মকর্তারা কনটেইনারটিতে তল্লাশি চালান। এ সময় বিভিন্ন ধরনের গাড়ির যন্ত্রাংশের পাশাপাশি বেশ কয়েকটি দামি গাড়ির খণ্ডিত অংশ নজরে আসে।

জব্দ করা পণ্যের মধ্যে রয়েছে লেক্সাস এলএক্স ৬০০, লেক্সাস এসসি ৪৩০ এবং বিএমডব্লিউ এম৫-এর বিভিন্ন অংশ। এর বাইরে হোন্ডা বি১৮সি টাইপ-আর ইঞ্জিন, অর্ধেক কাটা গাড়ির অংশসহ বিপুল পরিমাণ যন্ত্রাংশ পাওয়া গেছে। এসব যন্ত্রাংশ একত্র করলে সংশ্লিষ্ট গাড়িগুলো সম্পূর্ণভাবে তৈরি করা সম্ভব কি না, সেটিও পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে।

কাস্টমস গোয়েন্দাদের প্রাথমিক অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, চালানটি বন্দরে পৌঁছানোর পর প্রায় এক মাস পার হলেও এর বিপরীতে প্রয়োজনীয় আমদানি নথি জমা দেওয়া হয়নি। পরবর্তী সময়ে নিলাম প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পণ্যগুলো খালাসের চেষ্টা করা হচ্ছিল বলে তদন্তসংশ্লিষ্টদের ধারণা। তবে শুল্ক গোয়েন্দাদের অভিযানের কারণে সেই উদ্যোগ আটকে যায়।

শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের উপপরিচালক প্রণয় চাকমা পণ্য জব্দের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, চালানটির বিষয়ে তদন্ত চলছে এবং প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত জব্দ করা পণ্য আমদানির প্রকৃত উদ্দেশ্য সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।

অধিদপ্তরের যুগ্ম পরিচালক সাগর সেন জানান, জাপান থেকে আনা চালানটির পণ্যকে পুরোনো যন্ত্রাংশ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু তল্লাশির পর যে ধরনের যন্ত্রাংশ পাওয়া গেছে, সেগুলোর মূল্য ও প্রকৃতি নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, শুল্ক ফাঁকি দেওয়ার উদ্দেশ্যে পূর্ণাঙ্গ গাড়ি খুলে বিভিন্ন অংশে বিভক্ত করে যন্ত্রাংশ হিসেবে আমদানি করা হয়ে থাকতে পারে।

এখন চালানটির প্রকৃত আমদানি মূল্য, পণ্য কেনার অর্থ কোথা থেকে এসেছে, অর্থ পরিশোধের পদ্ধতি, আমদানি-সংক্রান্ত কাগজপত্র এবং সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়িক লেনদেন পরীক্ষা করা হচ্ছে। পাশাপাশি এসব পণ্যের সঙ্গে কোনো ধরনের অবৈধ আর্থিক লেনদেন বা অর্থ পাচারের যোগসূত্র রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, গাড়িগুলোর খণ্ডিত অংশ হিসেবে আমদানি করা পণ্যের প্রকৃত মূল্য নির্ধারণ করা এবং সেগুলো কীভাবে দেশে আনা হয়েছে, তা তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। একই সঙ্গে আমদানি ঘোষণার সঙ্গে বাস্তবে পাওয়া পণ্যের মিল রয়েছে কি না, সেটিও যাচাই করা হচ্ছে।

চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ পণ্য আমদানি-রপ্তানি হয়। এ ধরনের চালানে পণ্যের প্রকৃত পরিচয় গোপন করে শুল্ক ফাঁকির চেষ্টা হয়ে থাকলে তা রাজস্ব আদায়ের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই জব্দ করা চালানের প্রতিটি নথি ও পণ্যের তথ্য বিস্তারিতভাবে যাচাই করা হচ্ছে।

তদন্ত শেষে শুল্ক ফাঁকির অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!