প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬, ০৪:৫৬ পিএম
পঞ্চগড় সদর উপজেলায় জমি কেনাকে কেন্দ্র করে চাচা-ভাতিজার বিরোধের জেরে বাড়ির সামনে চলাচলের রাস্তায় সুপারি গাছ লাগিয়ে প্রতিবন্ধকতা তৈরির অভিযোগ উঠেছে। এতে ভুক্তভোগী পরিবারের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি ব্যবসার কাজে ব্যবহৃত ট্রাক্টরও বাড়ি থেকে বের করতে পারছে না বলে অভিযোগ করেছেন পরিবারের সদস্যরা।
ঘটনাটি উপজেলার সাতমেরা ইউনিয়নের দেবনগড় গ্রামের। ভুক্তভোগী নওশাদ হোসেন বিপুল ওই গ্রামের মৃত জমশেদ আলীর ছেলে। আর অভিযুক্ত তাঁর চাচা মো. বেলাল, বয়স আনুমানিক ৫৫ বছর।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দেবনগড় গ্রামের একটি চলাচলের পথ দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নওশাদ হোসেন বিপুল ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা যাতায়াত করে আসছেন। একই পথ দিয়ে ব্যবসায়িক কাজেও ট্রাক্টর চলাচল করত। বাড়িঘরের মাঝখান দিয়ে যাওয়া ওই পথটি স্থানীয়ভাবে কয়েকটি পরিবারের চলাচলের জন্য ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
সম্প্রতি ব্যবসায়িক প্রয়োজনে অর্থের প্রয়োজন হওয়ায় বিপুলের চাচাতো ভাই আলমান তাঁর মালিকানাধীন প্রায় সাড়ে সাত শতক জমি বিক্রির উদ্যোগ নেন। ওই জমি কেনার আগ্রহ প্রকাশ করেন চাচা বেলাল। জমিটি কেনার জন্য তিনি কয়েক দিন ধরে যোগাযোগ করলেও শেষ পর্যন্ত প্রয়োজনীয় অর্থের ব্যবস্থা করতে পারেননি। পরে আলমান জমিটি অন্য একজনের কাছে বিক্রি করে দেন বলে জানা গেছে।
এরপরই দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত হয় বলে অভিযোগ। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, গত ১ সেপ্টেম্বর বেলাল বাড়ির সামনের চলাচলের জায়গায় সুপারি গাছ রোপণ করেন। তাঁদের অভিযোগ, গাছগুলো এমনভাবে লাগানো হয়েছে যে ওই পথ দিয়ে স্বাভাবিকভাবে মানুষ ও যানবাহন চলাচল করতে পারছে না।
বিপুলের অভিযোগ, রাস্তায় গাছ লাগানোর কারণে তাঁদের ব্যবসার কাজে ব্যবহৃত ট্রাক্টর বাড়ি থেকে বের করা সম্ভব হচ্ছে না। শুধু তাঁর পরিবার নয়, আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষও ওই পথ ব্যবহার করায় তাঁরাও সমস্যায় পড়ছেন বলে দাবি করেন তিনি।
সমস্যার সমাধান চেয়ে গত ৮ সেপ্টেম্বর পঞ্চগড় সদর থানায় লিখিত অভিযোগ করেন বিপুল। এর আগে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছেও বিষয়টি জানানো হয়েছিল বলে দাবি তাঁর পরিবারের। তবে অভিযোগের পরও এখন পর্যন্ত সমস্যাটির স্থায়ী সমাধান হয়নি বলে তাঁরা জানান।
অভিযোগের বিষয়ে মো. বেলাল ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন। তাঁর দাবি, যে জায়গায় সুপারি গাছ লাগানো হয়েছে, সেটি তাঁর নিজের পৈতৃক সম্পত্তির অংশ। তাই নিজের জায়গাতেই তিনি গাছ রোপণ করেছেন। জমি কেনার জন্য অর্থের ব্যবস্থা করেও শেষ পর্যন্ত ভাতিজার কাছ থেকে জমিটি কিনতে পারেননি বলে দাবি করেন তিনি। এ কারণেই নিজের জমির অংশে গাছ লাগিয়েছেন বলে জানান বেলাল।
এ বিষয়ে পঞ্চগড় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোখলেছুর রহমান জানান, চলাচলের রাস্তায় সুপারি গাছ লাগানোর বিষয়ে একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
চাচা-ভাতিজার জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে চলাচলের পথ নিয়ে তৈরি হওয়া এ সমস্যার দ্রুত সমাধান চান স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের মতে, ব্যক্তিগত জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধ থাকলে তা আইনগতভাবে নিষ্পত্তি করা উচিত, যাতে সাধারণ মানুষের চলাচলে কোনো ধরনের বাধা সৃষ্টি না হয়।



