প্রকাশিত: মার্চ ২১, ২০২৬, ০৬:২৮ পিএম
ইরানের নববর্ষ নওরোজ উপলক্ষে দেশটির নেতাদের শুভেচ্ছা জানিয়ে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন তেহরানের পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেছেন, মস্কো সবসময় ইরানের একনিষ্ঠ বন্ধু ও নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে পাশে থাকবে।
শনিবার ক্রেমলিনের এক বার্তায় জানানো হয়, পুতিন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মুজতবা খামেনি এবং প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের উদ্দেশ্যে পাঠানো শুভেচ্ছা বার্তায় এই প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি বর্তমান সংকটময় পরিস্থিতিতে ইরানি জনগণের দৃঢ়তা ও সাহসিকতার প্রশংসা করেন এবং তাদের প্রতিকূলতা অতিক্রমের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
ক্রেমলিনের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানবিরোধী তৎপরতা মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলেছে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি পরিস্থিতিতে চাপ সৃষ্টি করেছে।
পুতিন তার বার্তায় ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতাকে হত্যার ঘটনাকে ‘নিষ্ঠুর’ বলে আখ্যা দিয়ে এর তীব্র নিন্দা জানান। তবে এই সমর্থন কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে নানা মহলে আলোচনা চলছে।
ইরানের কিছু সূত্রের দাবি, সাম্প্রতিক সংকটে রাশিয়ার কাছ থেকে প্রত্যাশিত বাস্তব সহায়তা পাওয়া যায়নি। যদিও দুই দেশের মধ্যে কৌশলগত সম্পর্ক বিদ্যমান, তবুও তাদের মধ্যে পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি না থাকায় সরাসরি সামরিক সহায়তার বাধ্যবাধকতা নেই।
এদিকে একটি আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, রাশিয়া যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একটি প্রস্তাব দিয়েছিল, যেখানে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় বন্ধের বিনিময়ে পারস্পরিক ছাড়ের কথা বলা হয়। যদিও এ ধরনের অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে নাকচ করেছে ক্রেমলিন।
বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক রাজনীতিতে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী রাখতে রাশিয়া ইরানের সঙ্গে সম্পর্ককে গুরুত্ব দিচ্ছে। একই সঙ্গে ইরানকে ঘিরে সংঘাতের ফলে জ্বালানির উচ্চমূল্য থেকেও অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হচ্ছে দেশটি।
তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে মস্কোর এই সমর্থন কতটা কূটনৈতিক এবং কতটা বাস্তব সহায়তায় রূপ নেবে—তা নিয়েই রয়ে গেছে অনিশ্চয়তা।



