প্রকাশিত: এপ্রিল ১৫, ২০২৬, ০৯:৩৬ পিএম
কূটনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন উত্তর কোরিয়া তাদের পারমাণবিক অস্ত্র উৎপাদনের সক্ষমতা ‘উল্লেখযোগ্যভাবে’ বাড়াচ্ছে বলে সতর্ক করেছেন আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থা (IAEA)-এর মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) সিউল সফরকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই আশঙ্কার কথা জানান।
গ্রোসির মতে, পিয়ংইয়ং বর্তমানে একাধিক ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থাপনা পরিচালনা করছে, যা পারমাণবিক ওয়ারহেড তৈরির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। বিশেষ করে ইয়ংবিয়ন পারমাণবিক কেন্দ্র ২০২১ সালে পুনরায় চালু হওয়ার পর এর কার্যক্রম দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে।
তিনি জানান, সংস্থাটির মূল্যায়নে দেখা গেছে ইয়ংবিয়ন রিঅ্যাক্টরের কার্যক্রম এখন সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ ইউনিট ও লাইট-ওয়াটার রিঅ্যাক্টরের কার্যক্রমও বেড়েছে, পাশাপাশি নতুন স্থাপনাও সক্রিয় হয়েছে।
যদিও ২০০৯ সাল থেকে আন্তর্জাতিক পরিদর্শকদের প্রবেশাধিকার বন্ধ রেখেছে কিম জং উন প্রশাসন, তবুও স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করে নতুন একটি ভবন নির্মাণের তথ্য নিশ্চিত হয়েছে। সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (CSIS) মনে করছে, এটি একটি বড় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ প্ল্যান্ট হতে পারে।
রাশিয়া এই নিষিদ্ধ কর্মসূচিতে প্রযুক্তিগত সহায়তা দিচ্ছে কি না—এমন প্রশ্নে গ্রোসি বলেন, এখনো নির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে সম্ভাব্য সহযোগিতা থাকলেও তা যেন বেসামরিক পর্যায়ে সীমাবদ্ধ থাকে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
উল্লেখ্য, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রাশিয়াকে সামরিক সহায়তার বিনিময়ে উত্তর কোরিয়া উন্নত প্রযুক্তি পাচ্ছে—এমন দাবি দীর্ঘদিন ধরেই করে আসছে পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থাগুলো।
এই পরিস্থিতিতে দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও জাপান-এর শীর্ষ নৌবাহিনী কর্মকর্তারা সিউলে জরুরি বৈঠক করেছেন। সেখানে পিয়ংইয়ংয়ের ক্ষেপণাস্ত্র হুমকি মোকাবিলায় সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়।
অন্যদিকে, দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী চো হিউন আইএইএ প্রধানের সঙ্গে বৈঠকে জানিয়েছেন, সিউল উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে উত্তেজনা কমিয়ে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করতে আগ্রহী।



