রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

কিমের পরিবার নিয়ে নতুন তথ্য প্রকাশ দক্ষিণ কোরিয়ার

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬, ০৭:২১ পিএম

কিমের পরিবার নিয়ে নতুন তথ্য প্রকাশ দক্ষিণ কোরিয়ার

ছবিঃ সংগৃহীত

উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে পরিচিত মেয়ে কিম জু-এয়ের একজন ছোট ভাই বা বোন রয়েছে বলে জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থা। বৃহস্পতিবার সংস্থাটির পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়। এর ফলে উত্তর কোরিয়ার ক্ষমতাসীন কিম পরিবারের ভবিষ্যৎ উত্তরাধিকার নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দাদের ধারণা, কিম জং উনের মোট তিন সন্তান থাকতে পারে। তবে তাদের সঠিক সংখ্যা, বয়স এবং জন্মক্রম নিয়ে এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, কিম জু-এয়ের একজন ছোট ভাই অথবা বোন রয়েছে। শিশুটির বয়স কত এবং সে ছেলে নাকি মেয়ে, সে বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

কিম জু-এ বর্তমানে কিম জং উনের সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন। দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থার বর্তমান মূল্যায়ন অনুযায়ী, তাকে ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাবার সঙ্গে রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে তার উপস্থিতিও এ ধারণাকে আরও জোরালো করেছে।

কিম জু-এ প্রথমবার প্রকাশ্যে আসেন ২০২২ সালে। সে সময় তাকে বাবার সঙ্গে একটি আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ-সংক্রান্ত অনুষ্ঠানে দেখা যায়। এরপর ধীরে ধীরে উত্তর কোরিয়ার গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় আয়োজনে তার উপস্থিতি বাড়তে থাকে। বিভিন্ন সামরিক অনুষ্ঠান, সরকারি আয়োজন এবং গুরুত্বপূর্ণ সফরেও বাবার পাশে তাকে দেখা গেছে।

উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় প্রচারমাধ্যমও বিভিন্ন সময়ে কিম জু-একে বিশেষ মর্যাদার শব্দে উল্লেখ করেছে। তাকে ‘প্রিয় সন্তান’ এবং ‘পথপ্রদর্শক’ ধরনের বিশেষণে অভিহিত করা হয়েছে। দেশটির রাজনৈতিক ব্যবস্থায় শীর্ষ নেতৃত্বকে ঘিরে ব্যবহৃত ভাষা ও প্রতীকী উপস্থাপনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় এসব বিষয়কে বিশেষভাবে বিশ্লেষণ করছেন পর্যবেক্ষকেরা।

এর আগে দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থা জানিয়েছিল, কিম জং উন ও তার স্ত্রী রি সোল-জুর প্রথম সন্তান ছেলে হতে পারে। ধারণা করা হয়েছিল, ওই সন্তানের জন্ম ২০১০ সালের দিকে। পরে কিম জু-একে তাদের দ্বিতীয় সন্তান হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে কিমের ছেলে সন্তান থাকার তথ্য সরকারিভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি বলে পরবর্তী সময়ে জানানো হয়েছিল।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, কিম পরিবারের সবচেয়ে ছোট সন্তানও রয়েছে। তার পরিচয় গোপন রাখা হয়েছে এবং ছেলে না মেয়ে—এমনকি তার বয়স সম্পর্কেও বিস্তারিত জানা যায়নি। উত্তর কোরিয়া সাধারণত দেশটির শীর্ষ নেতৃত্ব এবং শাসক পরিবারের ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে খুব সীমিত তথ্য প্রকাশ করে। এ কারণে কিমের সন্তানদের বিষয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য সংগ্রহ করা দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দাদের জন্যও কঠিন।

কিম জু-এয়ের সম্ভাব্য বড় ভাই রয়েছে কি না, সেটিও দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দারা খতিয়ে দেখছে। তবে বড় কোনো সন্তান থাকলেও তাকে ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে—এমন কোনো স্পষ্ট ইঙ্গিত এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। পর্যবেক্ষকদের মতে, উত্তরাধিকার নির্ধারণে শুধু বয়স বা জন্মক্রম নয়, নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা এবং কিম পরিবারের রাজনৈতিক ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

কিম জং উন নিজেও পরিবারের জ্যেষ্ঠ সন্তান ছিলেন না। তারপরও তিনি তার বাবা কিম জং ইলের মৃত্যুর পর উত্তর কোরিয়ার নেতৃত্ব গ্রহণ করেন। ফলে ভবিষ্যৎ উত্তরসূরি নির্বাচনের ক্ষেত্রে কিম জং উনও শুধু জন্মক্রমের ওপর নির্ভর করবেন—এমনটা নিশ্চিত করে বলা যায় না।

গত কয়েক বছরে কিম জু-একে যেভাবে বাবার সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় আয়োজনে সামনে আনা হচ্ছে, তাতে তাকে ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের জন্য প্রস্তুত করার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে। তবে উত্তর কোরিয়ার পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে উত্তরসূরি ঘোষণা করা হয়নি।

কিম পরিবারের নতুন সন্তানের তথ্য প্রকাশের ফলে উত্তর কোরিয়ার ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে পর্যবেক্ষকদের আগ্রহ আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে কিম জু-এয়ের অবস্থান, তার ছোট ভাই বা বোনের পরিচয় এবং ভবিষ্যতে উত্তরাধিকার প্রশ্নে পরিবারের সিদ্ধান্ত—এসব বিষয় এখন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণে আরও গুরুত্ব পাবে।

 

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!