প্রকাশিত: জুন ২৪, ২০২৬, ০৯:১৭ এএম
নিজেদের সামরিক সক্ষমতা আরও বিস্তৃত করতে নতুন পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেছে উত্তর কোরিয়া। দেশটির শীর্ষ নেতা কিম জং উন জানিয়েছেন, ভবিষ্যতের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নৌবাহিনীকে পূর্ণাঙ্গভাবে পারমাণবিক অস্ত্র সক্ষম বাহিনীতে রূপান্তর করা হবে। একই সঙ্গে যুদ্ধজাহাজ, ক্ষেপণাস্ত্র ও অন্যান্য কৌশলগত সামরিক সরঞ্জামের উন্নয়ন কার্যক্রমও আরও জোরদার করা হবে।
একটি নতুন যুদ্ধজাহাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে কিম জং উন বলেন, বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে এবং বিভিন্ন সামরিক জোট ও শক্তিধর রাষ্ট্রের চাপের মুখে উত্তর কোরিয়াকে নিজেদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে হবে। তার মতে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য পারমাণবিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এখন সময়ের দাবি।
তিনি জানান, নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজগুলোকে এমনভাবে উন্নত করা হবে যাতে সেগুলো থেকে দূরপাল্লার কৌশলগত অস্ত্র নিক্ষেপ করা সম্ভব হয়। পাশাপাশি দেশীয় অস্ত্র উৎপাদন ব্যবস্থাও সম্প্রসারণ করা হবে এবং আধুনিক সামরিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হবে।
উত্তর কোরিয়ার নেতৃত্ব আরও ইঙ্গিত দিয়েছে যে আগামী কয়েক বছরে নতুন প্রজন্মের একাধিক বৃহৎ যুদ্ধজাহাজ নির্মাণ করা হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রতিবছর অন্তত দুটি করে উন্নত সামরিক জাহাজ বহরে যুক্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া স্থলভিত্তিক ও চলমান ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থাও সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, উত্তর কোরিয়া দীর্ঘদিন ধরেই নিজেদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে বহুমাত্রিক রূপ দেওয়ার চেষ্টা করছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটি ভূগর্ভস্থ সামরিক স্থাপনা, ডুবোজাহাজ সক্ষমতা এবং দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তিতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখিয়েছে। ফলে দেশটির প্রতিরক্ষা শক্তি আগের তুলনায় অনেক বেশি বিস্তৃত ও জটিল হয়ে উঠেছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ঘোষণার মাধ্যমে পিয়ংইয়ং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একটি স্পষ্ট বার্তা দিতে চেয়েছে যে তারা নিজেদের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির পথ থেকে সরে আসবে না। একই সঙ্গে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপরও এর প্রভাব পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, উত্তর কোরিয়ার নতুন এই উদ্যোগ পূর্ব এশিয়ায় সামরিক ভারসাম্য ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি করতে পারে। ফলে আগামী দিনগুলোতে দেশটির সামরিক কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক মহলের নিবিড় পর্যবেক্ষণে থাকবে।



