প্রকাশিত: জুন ৮, ২০২৬, ০১:৫৪ পিএম
উত্তর কোরিয়ার রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ে সাত বছর পর চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের সফর ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। দুই দিনের এই রাষ্ট্রীয় সফরকে কেবল কূটনৈতিক সৌজন্য নয়, বরং পূর্ব এশিয়ার পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতায় একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সফরের শুরুতেই শি চিনপিং স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, চীন ও উত্তর কোরিয়ার সম্পর্ক এখন একটি ‘নতুন ঐতিহাসিক সূচনাবিন্দুতে’ দাঁড়িয়ে আছে এবং দুই দেশ সময়ের নতুন দায়িত্ব বহন করছে।
সোমবার সকালে পিয়ংইয়ং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে শি চিনপিংকে জাঁকজমকপূর্ণ পরিবেশে স্বাগত জানান উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন কিমের স্ত্রী রি সোল জু। বিমানবন্দর এলাকা সাজানো হয় দুই দেশের পতাকায়। লাল গালিচা, সামরিক সম্মান প্রদর্শন এবং বিপুল মানুষের উপস্থিতি পুরো আয়োজনকে বিশেষ মাত্রা দেয়। দীর্ঘদিন পর এমন উচ্চপর্যায়ের সফর উত্তর কোরিয়ার কূটনৈতিক অবস্থানেও নতুন গুরুত্ব যোগ করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
সফরকালে শি চিনপিং বলেন, দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব সময়ের পরীক্ষায় আরও শক্তিশালী হয়েছে। তার মতে, ভবিষ্যতে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর মাধ্যমে আঞ্চলিক শান্তি, স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারবে বেইজিং ও পিয়ংইয়ং। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন, পরিবর্তিত বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে দুই দেশের সমন্বিত অবস্থান আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
এই সফর এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন কোরীয় উপদ্বীপে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, পারমাণবিক কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক শক্তিগুলোর ভূরাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে আলোচনা তীব্র হয়েছে। এ অবস্থায় শি ও কিমের বৈঠককে কেবল দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের দৃষ্টিকোণ থেকে নয়, বৃহত্তর আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্যের অংশ হিসেবেও বিবেচনা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে রাশিয়ার ঘনিষ্ঠতা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে চীনও নিজেদের প্রভাব আরও সুদৃঢ় করতে চাইছে।
যদিও বৈঠকের বিস্তারিত ফলাফল এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি, তবুও অর্থনৈতিক সহায়তা, নিরাপত্তা সহযোগিতা এবং কৌশলগত সমন্বয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এ সফরের মধ্য দিয়ে শুধু দুই দেশের সম্পর্ক নয়, বরং পূর্ব এশিয়ার কূটনৈতিক সমীকরণেও নতুন পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলতে পারে।
সব মিলিয়ে, শি চিনপিংয়ের এই সফরকে চীন-উত্তর কোরিয়া সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবেই দেখছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকেরা। আগামী দিনগুলোতে এই বৈঠকের ফলাফল আঞ্চলিক রাজনীতিতে কী ধরনের প্রভাব ফেলে, সেদিকেই এখন সবার নজর।



