প্রকাশিত: জুন ২৪, ২০২৬, ১০:১৮ পিএম
উত্তর কোরিয়া তাদের সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা শক্তি আরও সুসংহত করতে নৌবাহিনীতে নতুন একটি বহুমুখী যুদ্ধজাহাজ যুক্ত করেছে। একই সঙ্গে দেশটির নেতৃত্ব স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, নৌবাহিনীকে আরও শক্তিশালী ও কৌশলগত সক্ষমতাসম্পন্ন বাহিনীতে রূপান্তরের যে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, তা নির্ধারিত লক্ষ্য অনুযায়ী এগিয়ে চলেছে।
দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থার প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, নাম্পো বন্দরে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নতুন যুদ্ধজাহাজটি আনুষ্ঠানিকভাবে নৌবাহিনীর কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন ধরনের সামরিক ও প্রযুক্তিগত পরীক্ষা সম্পন্ন করার পর জাহাজটি পূর্ণাঙ্গভাবে দায়িত্ব গ্রহণের উপযোগী বলে বিবেচিত হয়েছে।
নতুন এই যুদ্ধজাহাজটি কয়েক হাজার টন ধারণক্ষমতাসম্পন্ন আধুনিক নৌযানের শ্রেণিভুক্ত। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, এটি উত্তর কোরিয়ার সামুদ্রিক সক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। বিশেষ করে দূরপাল্লার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, উন্নত অস্ত্র বহনের সক্ষমতা এবং সমুদ্রভিত্তিক কৌশলগত কার্যক্রম পরিচালনায় এ ধরনের যুদ্ধজাহাজ উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে পারে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন বলেন, নতুন যুদ্ধজাহাজের সংযোজন উত্তর কোরিয়ার নৌবাহিনীকে আরও আধুনিক ও কার্যকর বাহিনীতে পরিণত করার পথে একটি বড় অর্জন। তিনি দাবি করেন, দেশের সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নৌবাহিনীর সক্ষমতা ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এই প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।
কিম জং উন আরও জানান, বর্তমানে নৌবাহিনীকে কৌশলগত শক্তিতে রূপান্তরের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এ লক্ষ্য অর্জনে নতুন নতুন যুদ্ধজাহাজ নির্মাণ, আধুনিক অস্ত্রব্যবস্থা সংযোজন এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলার কাজ চলছে। তিনি ইঙ্গিত দেন, শিগগিরই আরও একটি যুদ্ধজাহাজ নৌবহরে যুক্ত হবে।
এছাড়া আগামী কয়েক বছরে আরও বৃহৎ আকারের যুদ্ধজাহাজ নির্মাণের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি। এসব নৌযান পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য নতুন নৌঘাঁটি স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান উত্তর কোরিয়ার নেতা।
সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উত্তর কোরিয়া স্থল, আকাশ ও সমুদ্র—তিন বাহিনীর সক্ষমতা বাড়াতে ব্যাপক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। নতুন যুদ্ধজাহাজ সংযোজন সেই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনারই অংশ। এর মাধ্যমে দেশটি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের প্রতিরক্ষা অবস্থান আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশ্ব রাজনীতির বর্তমান বাস্তবতায় উত্তর কোরিয়ার এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক মহলেও নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং নৌবহর সম্প্রসারণের এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে পূর্ব এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপরও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।



