প্রকাশিত: এপ্রিল ১৮, ২০২৬, ১০:২২ পিএম
ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক হামলার জেরে স্বল্প সময়ের মধ্যেই বৈশ্বিক জ্বালানি পরিস্থিতি ভয়াবহ সংকটে রূপ নিয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গত প্রায় ৫০ দিনে বিশ্বজুড়ে অন্তত ৫০০ মিলিয়ন ব্যারেল জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে, যার আর্থিক ক্ষতি ছাড়িয়েছে ৫০ বিলিয়ন ডলার।
সংঘাতের পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা চালানোর পাশাপাশি বিশ্ব জ্বালানির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়। পরবর্তীতে যুদ্ধবিরতির প্রেক্ষাপটে সাময়িকভাবে প্রণালিটি চালু হলেও মার্কিন অবরোধ অব্যাহত থাকায় আবারও এটি বন্ধ করা হয়।
বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই সংকটকে আধুনিক ইতিহাসের অন্যতম বড় জ্বালানি বিপর্যয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। সরবরাহে যে ঘাটতি তৈরি হয়েছে, তা যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় এক মাসের জ্বালানি চাহিদার সমান। এর প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতি, পরিবহন ব্যবস্থা এবং শিল্প উৎপাদনে গভীরভাবে পড়ছে।
পরিসংখ্যান বলছে, এই বিপুল পরিমাণ জ্বালানি ঘাটতির কারণে বিশ্বব্যাপী বিমান চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে। একই সঙ্গে সড়কপথে যান চলাচলও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এমনকি কিছু সময়ের জন্য বিশ্ব অর্থনীতিতে জ্বালানি সরবরাহ প্রায় স্থবির হয়ে পড়ার ঝুঁকিও তৈরি হয়েছে।
এ ছাড়া ফেব্রুয়ারি থেকে মার্চ সময়কালে আরব অঞ্চলের ছয়টি দেশের তেল বিক্রি কমেছে ২০৬ মিলিয়ন ব্যারেলের বেশি। মার্চ মাসে উপসাগরীয় দেশগুলো প্রতিদিন প্রায় ৮০ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন করতে পারেনি, যা বড় দুই আন্তর্জাতিক কোম্পানির সম্মিলিত উৎপাদনের সমান।
সৌদি আরব, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে বিমান জ্বালানি রপ্তানিও ব্যাপকভাবে কমে গেছে। ফেব্রুয়ারিতে যেখানে প্রায় ২ কোটি ব্যারেল রপ্তানি হয়েছিল, সেখানে মার্চ ও এপ্রিলে তা নেমে এসেছে মাত্র ৪০ লাখ ব্যারেলে।
এপ্রিল মাসে বিশ্বব্যাপী তেলের মজুদ প্রায় সাড়ে ৪ কোটি ব্যারেল কমেছে এবং প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ ব্যারেল উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে।



