প্রকাশিত: এপ্রিল ২৯, ২০২৬, ১০:৫০ এএম
ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক পদক্ষেপ না নিয়ে এবার দীর্ঘমেয়াদী নৌ-অবরোধের কৌশল গ্রহণের পথে হাঁটছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই পরিকল্পনায় অটল রয়েছেন বলে জানা গেছে। এতে ইরানের ওপর সামরিক চাপের বদলে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক চাপ বাড়ানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দীর্ঘস্থায়ী নৌ-অবরোধ কার্যকর করার প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দিয়েছে। এই কৌশলের মাধ্যমে ইরানের বন্দরগুলোতে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। ফলে দেশটির তেল রপ্তানি এবং সামগ্রিক অর্থনীতি বড় ধরনের চাপে পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ওয়াশিংটনের নীতিনির্ধারকদের মতে, সরাসরি যুদ্ধের তুলনায় এই পদ্ধতি কম ঝুঁকিপূর্ণ এবং দীর্ঘমেয়াদে অধিক কার্যকর। তারা মনে করছেন, এই অবরোধ ইরানকে আলোচনার টেবিলে ফিরতে বাধ্য করতে পারে।
তবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অবস্থান এখনো অপরিবর্তিত রয়েছে। বিশেষ করে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম দীর্ঘ সময়ের জন্য স্থগিত রাখার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি থেকে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হয়নি। এ অবস্থানকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
অন্যদিকে ইরান জানিয়েছে, তারা নতুন প্রস্তাব নিয়ে কাজ করছে এবং তা উপস্থাপনের আগে অভ্যন্তরীণ পর্যায়ে বিস্তারিত আলোচনা প্রয়োজন। মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর মাধ্যমে আলোচনার চেষ্টা চললেও যুক্তরাষ্ট্রের এই কঠোর কৌশল পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সামরিক অভিযান এড়িয়ে অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে ইরানকে নিয়ন্ত্রণে আনার কৌশলই এখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান লক্ষ্য। তবে এই দীর্ঘমেয়াদী অবরোধ মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি বাজার এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথগুলো দিয়ে বিশ্বে বিপুল পরিমাণ তেল পরিবহন হয়। এই পথে কোনো ধরনের বাধা সৃষ্টি হলে তেলের দামে অস্থিরতা দেখা দিতে পারে, যার প্রভাব পড়বে বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও।
সব মিলিয়ে, বর্তমান পরিস্থিতি এক নতুন মোড় নিয়েছে। এখন আন্তর্জাতিক মহল তাকিয়ে আছে ইরানের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং সম্ভাব্য কূটনৈতিক সমাধানের দিকে।



